অসহায় শিশু রাহিদুলের জীবনসংগ্রাম: বৃদ্ধ নানা-নানীর আশ্রয়ে এক করুণ অধ্যায়।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার গাছকাটাছড়ি গ্রামের ১নং ওয়ার্ডে বসবাসকারী ৯ বছর বয়সী মোঃ রাহিদুল ইসলামের জীবন এক গভীর সংগ্রামের গল্প। জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধিতার শিকার রাহিদুল জন্মের পরপরই তার মা আকলিমা বেগমকে হারায়। অন্যদিকে, তার পিতা মোঃ নুরুল কবির পলাতক থাকায় শিশুটি পিতৃস্নেহ ও মাতৃছায়া—উভয় থেকেই বঞ্চিত। বর্তমানে সে তার বৃদ্ধ নানা মোঃ তোবারক মোল্লা (৯০) ও নানি মোসাঃ জাহানারা বেগমের (৮০) আশ্রয়ে বেড়ে উঠছে।
তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র আশ্রয়স্থল বাড়িটি বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বাঁশ ও কাঠের তৈরি এই নড়বড়ে ঘরটি ঝড়-বৃষ্টির সময় তাদের কোনো নিরাপত্তা দিতে পারে না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পরিবারের তিনজন সদস্যই—নানা, নানি এবং শিশু রাহিদুল—শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাদের ওষুধ কেনার খরচ জোগানো এই চরম দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে; প্রতি সপ্তাহে শুধুমাত্র নানার ওষুধের জন্য ৪,৫০০ টাকা, নানির জন্য ১,৫০০ টাকা এবং শিশু রাহিদুলের চিকিৎসার জন্য ১,০০০ টাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ, প্রতি সপ্তাহে ওষুধের পেছনেই তাদের প্রায় ৭,০০০ টাকা ব্যয় করতে হয়, যা সংগ্রহ করা তাদের মতো অসহায় পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব একটি চ্যালেঞ্জ।
বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও চরম অভাব নিয়ে এই বয়োজ্যেষ্ঠ দম্পতি পরম মমতায় প্রতিবন্ধী নাতিকে আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই অসহায় পরিবারটির পক্ষে নিজেদের দৈনন্দিন অন্নসংস্থান করাই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে রাহিদুলের চিকিৎসা ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করা তাদের জন্য এক পাহাড়সম বাধা। এমন মানবেতর পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সবিনয় অনুরোধ, আপনারা যদি এই অসহায় শিশুটির এবং তার বৃদ্ধ নানা-নানীর পাশে এসে দাঁড়ান, তবে হয়তো কিছুটা হলেও তাদের এই দুর্দিন ঘুচবে। আপনাদের সামান্য সাহায্যই পারে শিশুটির সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং বয়োবৃদ্ধ এই দম্পতির শেষ জীবনের কষ্ট লাঘব করতে।



আপনার মতামত লিখুন