খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

১৪ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার চট্টগ্রাম বোর্ডে, চলছে পর্যালোচনার ব্যবচ্ছেদ

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
১৪ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার চট্টগ্রাম বোর্ডে, চলছে পর্যালোচনার ব্যবচ্ছেদ

* ইংরেজি-আইসিটিতে দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট ও মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রভাব। অনেক কলেজে আইসিটি বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষক নেই।

* শুধু পাসের হার কমই নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

* অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ধারিত রুব্রিক্স পদ্ধতি অনুসরণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১৪ বছরের মধ্যে এবার সর্বনিম্ন পাসের হার এবং গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে এ বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। শুধু পাসের হার কমই নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কমে যাওয়া, সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লেখার দক্ষতার অভাব এবং তিন পার্বত্য জেলার পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে এ বিপর্যয়ের নেপথ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাগুলো সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ধারিত রুব্রিক্স পদ্ধতি অনুসরণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব কারণের আড়ালে শিক্ষার গুণগত মান, পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা অর্জনের ঘাটতি কতটা দায়ী, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফলঃ

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ২৮৩টি কলেজের ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পাসের হার সামান্য কমলেও সামগ্রিক ফলাফলের মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে।
পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই এমন নিম্নমুখী প্রবণতা শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এবার ২২ হাজার ১১৪ জন পরীক্ষার্থী এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন। পরীক্ষায় বহিষ্কার হয়েছেন একজন। বোর্ডের ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ইংরেজি ও আইসিটিতে বড় ধাক্কাঃ

যোগোযোগ: ০১৮৩০৩৯৩৪৩৯

ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজিতে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং আইসিটিতে ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে ইংরেজিতে ৩৪ হাজার ১৭৭ জন এবং আইসিটিতে ২৬ হাজার ৫৯৭ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন।
দুটি বিষয়ই আবশ্যিক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্যের উচ্চ হার সামগ্রিক পাসের হার কমিয়ে দিয়েছে।
কেন আবশ্যিক দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের এমন দুর্বলতা, তার ব্যাখ্যায় শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, অনেক কলেজে আইসিটি বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষক নেই। কোথাও খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই যতটুকু সম্ভব পড়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। অন্যদিকে ১২ বছর ইংরেজি পড়াশোনা করেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের ভাষাগত দক্ষতা তৈরি হচ্ছে না।
তার এ বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট ও পাঠদানের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে আইসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা এবং দীর্ঘ শিক্ষাজীবনেও ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে না পারা দেশের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিন পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ চিত্রঃ

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে তিন পার্বত্য জেলার দুর্বল ফলাফলও বড় ভূমিকা রেখেছে। জেলার ভিত্তিতে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৪১ দশমিক ২৪ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে পাসের হার মাত্র ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গত বছর ছিল ৩৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বান্দরবানে পাসের হার ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ।
অর্থাৎ তিন পার্বত্য জেলার কোনো জেলাতেই পাসের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে খাগড়াছড়ির ফলাফল সবচেয়ে উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ হলেও মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এ হার ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এতে মহানগর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার সুযোগ, পাঠদানের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর মতে, পার্বত্য অঞ্চলে অনেক শিক্ষার্থীকে ২০ থেকে ৩০ মাইল দূর থেকে কলেজে আসতে হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাস করা তাদের পক্ষে কঠিন। দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকটও সেখানে বড় সমস্যা। বিশেষ করে সৃজনশীল চিন্তা, বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ ও নেতৃত্বের মতো দক্ষতা বিকাশে প্রয়োজনীয় যোগ্য শিক্ষকও পর্যাপ্ত নেই।

সৃজনশীলতা নয়, গাইডনির্ভর পড়াশোনাঃ

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পর্যবেক্ষণে শিক্ষার্থীদের উত্তর লেখার দক্ষতার ঘাটতিও ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারলেও প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্নের উত্তরে প্রয়োজনীয় যুক্তি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে পারেন না।
বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী গাইডনির্ভর পড়াশোনায় অভ্যস্ত। ফলে মুখস্থ করা তথ্যের বাইরে গিয়ে নিজের ভাষায় বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লেখার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—দীর্ঘদিন ধরে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান ও পরীক্ষা চললেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা কেন প্রত্যাশিত মাত্রায় গড়ে উঠছে না?

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং পড়াশোনার পরিবেশ ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চট্টগ্রাম কলেজে মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষকদের নিবেদিত প্রচেষ্টার কারণে তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত সুবিধা নেই, শিক্ষকসংকট রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষমুখী নয়, সেখানে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

অভিন্ন প্রশ্ন ও রুব্রিক্স মূল্যায়নে কমেছে নম্বর?

এবার দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনুসরণ করা হয়েছে রুব্রিক্স বা পূর্বনির্ধারিত নম্বর বণ্টন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে কোন অংশের জন্য কত নম্বর দেওয়া হবে, তা আগেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ফলে আগের মতো ঢালাওভাবে বা বাড়তি নম্বর দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে এবার উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অর্জনের চিত্র এবার ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে জিপিএ-৫ কমেছে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ একই প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন পদ্ধতি দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে কার্যকর থাকলেও চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফল বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, মাত্র তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়া গ্রহণযোগ্য ফল নয়। কোথাও না কোথাও ঘাটতি রয়েছে। সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর বহু বছর পরও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত দক্ষতা তৈরি না হলে সংকটের জায়গা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে ফলাফল আরও খারাপ হতে পারে।

দীর্ঘ পরীক্ষাসূচি ও দুর্যোগের প্রভাবঃ

এবারের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ২৭ জুলাই নিয়মিত সূচিতে পরীক্ষা শুরু হলেও স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয় ২০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ফলে পরীক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী শাফকাতুন তাবাসসুম তুষি গণমাধ্যম কর্মিদের বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চললে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা হলে প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কিন্তু মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি হলে সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।
এ ছাড়া ২০১৯ সালের পর এবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে, মানবিকে সবচেয়ে পিছিয়ে
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও বড় ব্যবধান দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় মানবিক বিভাগের ফলাফল অনেক পিছিয়ে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকেও মানবিক বিভাগে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। এ বিভাগে ১৬ হাজার ৪০১ জন ছাত্র ও ২৭ হাজার ৯৩৬ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছেন।
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ হাজার ২৬৭ জন ছাত্র ও ১২ হাজার ৬৬২ জন ছাত্রী। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্র ও ১৫ হাজার ৯৭৭ জন ছাত্রী।
সামগ্রিক ফলাফলে ছাত্রীদের অবস্থান তুলনামূলক ভালো। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৩৩ জন ছাত্র।

তদন্ত ও গবেষণার দাবিঃ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বলেন, ২০২০ সালে নতুন সিলেবাস ঘোষণার পর এবারই শিক্ষার্থীরা প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছে। করোনা মহামারিসহ নানা কারণে পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছিল। সে কারণে এবারের পরীক্ষার্থীদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। জিপিএ-৫ এত কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে গবেষণা করা প্রয়োজন। বোর্ড দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়াও শিক্ষার মানের ওপর প্রভাব ফেলছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকলে শিক্ষকদের পাঠদান থেকে সরাসরি উপকৃত হতে পারে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বোর্ডের এবারের ফলাফল শুধু পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতার চিত্র নয়; বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান, শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন সামনে এনেছে।
বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলার দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে দক্ষতার অভাব এবং গাইডনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ফলাফল প্রকাশ ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধ না থেকে কলেজভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং পাঠদানের মান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

হাফিজুর রহমান,, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

কেশবপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এর জনস্বার্থ বিষয়ক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খান।


Waterproof mobile Cover
01830 393439

সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যের পক্ষে কেশবপুরের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আকরাম খান। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

মোঃ কামাল হোসেন , নরসিংদী।
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

নরসিংদীর শিবপুরে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ ইং পালন করা হয়েছে। অদ্য ১ নভেম্বর ২০২৬ ইং রবিবার সকাল ১১টা সময় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস এর আয়োজনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন এর সভাপতিত্বে অন্যান্য দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহসিনা জাহান তোরণ,উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র সরদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলতাফ হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম,যুব সংগঠক আলমগীর হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন এর রাজারটেক ও কামরাবো বাজার এলাকায় কৃষিজমির উপরিভাগ এর উর্বর মাটি (টপ সয়েল) অবৈধভাবে কর্তনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সামিউর রহমান সহকারী কমিশনার ( ভূমি) শিবপুর ।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন জব্দ করা হয়। তবে অভিযান পরিচালনা কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হননি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে নোটিশ প্রদানপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।