খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের চিত্র: বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা

শেখ শহীদুল হক বাবলু নিজস্ব চট্টগ্রাম।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের চিত্র: বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা

বিগত ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং রোজ বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নানা প্রশ্নোত্তরের মাঝে এক সাংবাদিক অভিযোগ তুলেন যে, চট্টগ্রামে নাকি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। তার এই মন্তব্যের জবাবে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান এবং পরিসংখ্যানসহ বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

আসলে, চট্টগ্রামে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে—তবে তা আংশিক, বিচ্ছিন্ন অভিযান ও বিভিন্ন সময়ের ফলাফল মিলিয়ে। পুরো ছবিটি একসাথে হয়তো সবার কাছে স্পষ্ট নয়। তাই এখানে সংবাদসূত্র ভিত্তিক কিছু তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করছি।
থানা-লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাসমূহ- ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের ৮টি থানা ও ৮টি ফাঁড়িতে লুট ও অগ্নিসংযোগের সময় ৮১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪৪,৩২৪টি গুলি লুট হয়। সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ আছে—এই অস্ত্রগুলোর বেশির ভাগ এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্র-উদ্ধার ও অনুপস্থিত অস্ত্রের অবস্থান-বিভিন্ন ব্যক্তি ইতোমধ্যেই লুট হওয়া অস্ত্র ফেরত দিয়েছেন। তবুও দুই শতাধিক অস্ত্র এখনও নিখোঁজ রয়েছে। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৪,২৭৫টি। যদিও এটি “উদ্ধার” নয়, বরং আইনসঙ্গতভাবে রাখা অস্ত্রের হিসাব। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এক অভিযানে “বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র” উদ্ধার হয়।সম্প্রতি ইপিজেড থানায় লুট হওয়া একটি চায়না পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি বাগেরহাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অভিযানের উদাহরণ- ফটিকছড়িতে এক অভিযানে ১টি রাইফেল, পিস্তলের গুলি, কার্তুজ ও চাকু জব্দ করা হয়। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পৃথক অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
গত এক বছরের উদ্ধার অভিযান- RAB-7 অভিযান (আগস্ট ২০২৪): ৩৫টি লুট হওয়া অস্ত্র ও ২৭৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও অকার্যকর ছিল। গার্বেজ ডাম্প উদ্ধার (মে ২০২৫): ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড গুলি আবর্জনার ডাম্প থেকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২টি অস্ত্র কোটালির থানার লুট হওয়া অস্ত্র হিসেবে শনাক্ত হয়। বিশ্লেষণ ও সীমাবদ্ধতা- “৮১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৪,৩২৪টি গুলি লুট” হওয়ার তথ্য সুনির্দিষ্ট, তবে তার বিপরীতে মোট কতটা উদ্ধার হয়েছে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।বিভিন্ন সংবাদে উল্লেখ আছে, “দুই শতাধিক অস্ত্র এখনও নিখোঁজ।” অর্থাৎ, উদ্ধার কার্যক্রম আংশিক হলেও চলমান। বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা একসাথে মেলানো যাচ্ছে না।উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তথ্যগুলো বিচ্ছিন্ন সংবাদ ও অভিযানভিত্তিক, সম্মিলিত কোনো সরকারি রিপোর্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি।
চট্টগ্রামে অস্ত্র উদ্ধার হয়নি—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। বরং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে এবং বহু অস্ত্র ও গুলি ইতোমধ্যে উদ্ধার হয়েছে। তবে লুট হওয়া বিপুল অস্ত্রের তুলনায় উদ্ধার সংখ্যা এখনও সীমিত। এই বাস্তবতা স্বীকার করেই বলা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনার হাসিব আজিজের বক্তব্য বাস্তবভিত্তিক ও যথাযথ।

এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিক আহত, গ্রেপ্তার ১১, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা ও সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা। সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কবির নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের দেলোয়ার হোসেন ও ইনকিলাবের আব্দুল মান্নান রয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

হাফিজুর রহমান,, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

কেশবপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এর জনস্বার্থ বিষয়ক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খান।


Waterproof mobile Cover
01830 393439

সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যের পক্ষে কেশবপুরের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আকরাম খান। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।।