চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের চিত্র: বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা

শেখ শহীদুল হক বাবলু নিজস্ব চট্টগ্রাম।
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ । ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ

বিগত ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং রোজ বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নানা প্রশ্নোত্তরের মাঝে এক সাংবাদিক অভিযোগ তুলেন যে, চট্টগ্রামে নাকি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। তার এই মন্তব্যের জবাবে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান এবং পরিসংখ্যানসহ বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

আসলে, চট্টগ্রামে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে—তবে তা আংশিক, বিচ্ছিন্ন অভিযান ও বিভিন্ন সময়ের ফলাফল মিলিয়ে। পুরো ছবিটি একসাথে হয়তো সবার কাছে স্পষ্ট নয়। তাই এখানে সংবাদসূত্র ভিত্তিক কিছু তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করছি।
থানা-লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাসমূহ- ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের ৮টি থানা ও ৮টি ফাঁড়িতে লুট ও অগ্নিসংযোগের সময় ৮১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪৪,৩২৪টি গুলি লুট হয়। সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ আছে—এই অস্ত্রগুলোর বেশির ভাগ এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্র-উদ্ধার ও অনুপস্থিত অস্ত্রের অবস্থান-বিভিন্ন ব্যক্তি ইতোমধ্যেই লুট হওয়া অস্ত্র ফেরত দিয়েছেন। তবুও দুই শতাধিক অস্ত্র এখনও নিখোঁজ রয়েছে। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৪,২৭৫টি। যদিও এটি “উদ্ধার” নয়, বরং আইনসঙ্গতভাবে রাখা অস্ত্রের হিসাব। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এক অভিযানে “বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র” উদ্ধার হয়।সম্প্রতি ইপিজেড থানায় লুট হওয়া একটি চায়না পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি বাগেরহাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অভিযানের উদাহরণ- ফটিকছড়িতে এক অভিযানে ১টি রাইফেল, পিস্তলের গুলি, কার্তুজ ও চাকু জব্দ করা হয়। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পৃথক অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
গত এক বছরের উদ্ধার অভিযান- RAB-7 অভিযান (আগস্ট ২০২৪): ৩৫টি লুট হওয়া অস্ত্র ও ২৭৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও অকার্যকর ছিল। গার্বেজ ডাম্প উদ্ধার (মে ২০২৫): ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড গুলি আবর্জনার ডাম্প থেকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২টি অস্ত্র কোটালির থানার লুট হওয়া অস্ত্র হিসেবে শনাক্ত হয়। বিশ্লেষণ ও সীমাবদ্ধতা- “৮১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৪,৩২৪টি গুলি লুট” হওয়ার তথ্য সুনির্দিষ্ট, তবে তার বিপরীতে মোট কতটা উদ্ধার হয়েছে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।বিভিন্ন সংবাদে উল্লেখ আছে, “দুই শতাধিক অস্ত্র এখনও নিখোঁজ।” অর্থাৎ, উদ্ধার কার্যক্রম আংশিক হলেও চলমান। বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা একসাথে মেলানো যাচ্ছে না।উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তথ্যগুলো বিচ্ছিন্ন সংবাদ ও অভিযানভিত্তিক, সম্মিলিত কোনো সরকারি রিপোর্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি।
চট্টগ্রামে অস্ত্র উদ্ধার হয়নি—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। বরং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে এবং বহু অস্ত্র ও গুলি ইতোমধ্যে উদ্ধার হয়েছে। তবে লুট হওয়া বিপুল অস্ত্রের তুলনায় উদ্ধার সংখ্যা এখনও সীমিত। এই বাস্তবতা স্বীকার করেই বলা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনার হাসিব আজিজের বক্তব্য বাস্তবভিত্তিক ও যথাযথ।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন