কেশবপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
যশোরের কেশবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক
সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ওই প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

01830 393439
প্রস্তুতিমূলক সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান হাফিজ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কেশবপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুর রব, কেশবপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল স্টেশন অফিসার মুজিবর রহমান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দীন আলা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবি আমীর সাঈদুর রহমান সাঈদ, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রভাষক জাকির হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র কেশবপুরের মূখ্য সমন্বয়ক সম্রাট হোসেন, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেশবপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেশবপুর উপজেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশটা আমাদের সকলের। এদেশে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। সকল ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানব কল্যাণ। আবহমানকাল ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করে আসছে। তাই হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্রত হওয়া আমাদের সকলের কর্তব্য।

০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দরভাবে উদযাপনের লক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর সাথে সামাজিক সৌর্হাদ্য যুক্ত হলে একটি প্রাণবন্ত উৎসব উদযাপন করতে পারবো। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এই উৎসবে অংশ নিবেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিশেষ অবদান রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় জানানো হয়, এবার এ উপজেলায় এলাকায় ১০২টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী সকল পূজামণ্ডপে আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। তারই পাশাপাশি পুলিশ বাহিনী পূজা শুরুর পূর্ব হতে পূজার দিনগুলোতে টহল বৃদ্ধি এবং কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বা মিথ্যা তথ্য ছড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও মাদক সেবনকারী ও ইভটিজিংকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে প্রতীমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে। আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হতে পারে তার জন্য পুলিশের টহল বৃদ্ধি করার পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রোকনুজ্জামান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবীর বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক ফারুক খান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, কেশবপুর প্রেসক্লাবের আহবায়ক মাহাবুবুর রহমান, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল, সহসভাপতি মাহাবুবুর রহমান সবুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টুসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদকবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন