খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ সরকারের মূল পরিকল্পনার অংশ : প্রধানমন্ত্রী

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ সরকারের মূল পরিকল্পনার অংশ : প্রধানমন্ত্রী

বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ সরকারের মূল পরিকল্পনার একটি অংশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাঁশখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ অঞ্চলের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণও আমাদের মূল পরিকল্পনার একটি অংশ। এটিও নির্মাণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

Waterproof mobile Cover
01830 393439

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচি ও জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে মূল কয়েকটি কাজে আমরা হাত দেব। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টে হাত দিয়েছিলাম। প্রজেক্টের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি মাসে আমরা কাজ শুরু করেছি।”

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারাদেশে ৪১ লাখ মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “বাঁশখালী উপজেলায় এ বছর ১০ থেকে ১১ হাজার মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। ক্রমান্বয়ে এ প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে আরও অধিক পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে।”
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও স্বাবলম্বী হোক। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের ব্যবস্থাও করেছি। আমরা লবণচাষিদের মাঝেও কার্ড তুলে দেব।”
বাঁশখালীর লবণশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ অঞ্চলের লবণশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।”
চট্টগ্রামকে শিল্পনগরী করার পরিকল্পনাঃ
চট্টগ্রামকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রামকে কীভাবে শিল্পনগরী করা যায়, সে পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। এই যে বিশাল সমুদ্র, এটিও বাংলাদেশের সম্পদ। এ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা আছে। যেখানে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পকারখানা স্থাপন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

“আমরা আর পিছিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। আগামীতে আমাদের সকল কর্মসূচি এ দেশের জনগণকে নিয়েই হবে। এ সরকার জনগণের সরকার। আমাদের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে।”
উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হবেঃ
জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক উপজেলার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ সরকার প্রত্যেক উপজেলার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করবে। এ সরকার জনগণের সরকার, জনগণের জন্য কাজ করে যাবে।”
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানঃ
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা দেশে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা যাবে না। কোনো বিভ্রান্তিতে কান দেওয়া যাবে না।”
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নতুন পরিকল্পনাঃ

ধানের শীষ, বিএনপি

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এ দেশের জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ খাতকে কীভাবে সমৃদ্ধ করা যায়, তা নিয়ে সংসদে আলোচনা করব।”
তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চান, তাদের বলব—আপনাদের কোনো পরিকল্পনা থাকলে আমাদের জানান।”
বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ হবেঃ
বাঁশখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ হবে, ইনশাআল্লাহ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রাখা হয়েছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আপনাদের লোক রয়েছে। এ অঞ্চলের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণও আমাদের মূল পরিকল্পনার একটি অংশ। এটিও নির্মাণ করা হবে।”
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবার পেল নতুন ঘরঃ
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতীকীভাবে ১০০টি গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবার ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করেন। সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠেও যান। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ করা হয়।
উৎসবমুখর বাঁশখালী, পথে পথে জনতার ঢলঃ

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানাতে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
বাঁশখালী ছাড়াও রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সড়কের দুই পাশে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমবেত হন। অনেক স্থানে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সফরসঙ্গী অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মহেশখালীতে মেগা প্রকল্প পরিদর্শনঃ
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী বহুমুখী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন (মিডা)-এর আওতাধীন মেগা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনকালে নির্মাণাধীন আধুনিক বন্দরটির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চান তিনি। জাপানের কাশিমা সমুদ্রবন্দরের আদলে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে মহেশখালীর পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে টেকসই ও যুগোপযোগী উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মহেশখালীতে স্বল্প ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে কর্মসূচি
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীঃ হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পালাহগাজীর দীঘির পাড়সংলগ্ন হেলিপ্যাডে অবতরণের পর মোটরগাড়িতে নাজিরহাটের বাবুনগর মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
পরে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে এবং ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে বিএনপির তৃণমূল, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম হোসাইনী।
এ সময় এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. জাকারিয়াসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে নগরী, উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন, বন্দরনগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার প্রত্যাশা করছেন চট্টগ্রামবাসী।

এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিক আহত, গ্রেপ্তার ১১, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা ও সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা। সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কবির নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের দেলোয়ার হোসেন ও ইনকিলাবের আব্দুল মান্নান রয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

হাফিজুর রহমান,, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

কেশবপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এর জনস্বার্থ বিষয়ক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খান।


Waterproof mobile Cover
01830 393439

সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যের পক্ষে কেশবপুরের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আকরাম খান। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।।