তোপের মুখে ইসি, প্রশাসন
ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি), প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত জোটের শরিক এনসিপিসহ কয়েকটি দলও অভিযোগ করছে।

গত ২৫ বছরে বিএনপি ও জামায়াত জোট করে তিনটি নির্বাচন করলেও এবার আওয়ামী লীগশূন্য মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে ভোটে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিদ্ধ করছে।
গতকাল রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেছেন, ইসির কিছু কর্মকর্তা একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রশাসন ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তা একটি দলের প্রতি ন্যক্কারজনকভাবে কাজ করছেন।
ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে আগের দিন শনিবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে, তবে আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশন সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত ভূমিকা, কিছু বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছে। তার পরও একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।’
গত কাল সন্ধ্যায় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে জামায়াত অভিযোগ করেছে, ইসি পক্ষপাত করছে। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসি পক্ষপাত করছে। প্রশাসন একটি বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত পাল্টা অভিযোগ করেছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তার নামে সরকার বাড়াবাড়ি করছে। দলটি দাবি জানিয়েছে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য জামায়াত আমিরকে তারেক রহমানের সমান নিরাপত্তা ও সুবিধা দিতে হবে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক এনসিপিও ইসি ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়ে দলটির মুখপাত্র পদে আসা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গতকাল নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে অংশ নেন। তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে অভিযোগ বলেছেন, একটি দলের মহাসচিবের সঙ্গে ইসি বৈঠকের পর ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বৈধ করেছে। ইসি এভাবে পক্ষপাত করলে এনসিপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা ভাবতে হবে।
এনসিপির অভিযোগ, ঢাকা-১১ আসনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম বিদেশি নাগরিক। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন।
প্রশাসন ও উপদেষ্টা বিরুদ্ধে অভিযোগ জামায়াতের :
সন্ধ্যা ৭টার দিকে যমুনায় যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সরকারপ্রধানের সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের বৈঠকের পর তিনি বেরিয়ে যান। দলটির নেতারা জানান, বৈঠকে উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের ‘পক্ষপাতের’ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে আবদুল্লাহ তাহের অভিযোগ করেছেন ইসি, প্রশাসন, পুলিশ ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি লঙ্ঘিত হলে এর দায় এড়াতে পারবে না ইসি।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের নায়েবে আমির বলেছেন, সারাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তার তালিকা করা হচ্ছে।
![]()
প্রশাসন নিয়ে অভিযোগ বিএনপির:
নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা একটি দলের হয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিইসিকে বলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কিছু সিনিয়র কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তারা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন। আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি।’
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ইসি অনেক ক্ষেত্রেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে বিএনপি মনে করে। এসব বিষয়েও সিইসিকে জানানো হয়েছে। বিএনপি চায়, ইসি যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।
মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা একটি দলের পক্ষে কিছু ন্যক্কারজনক কাজ করছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। সে বিষয়গুলো সিইসিকে জানিয়েছি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে তদন্তপূর্বক তাদের প্রত্যাহার করতে অনুরোধ জানিয়েছি।



আপনার মতামত লিখুন