খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

একজন শিক্ষকের বিদায়ে কেঁদে উঠল বিদ্যালয় স্মৃতিময় ৩৫ বছরের ইতি টানলেন আনোয়ার স্যার মহোদয়।

শেখ শহীদুল হক বাবলু , চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
একজন শিক্ষকের বিদায়ে কেঁদে উঠল বিদ্যালয় স্মৃতিময় ৩৫ বছরের ইতি টানলেন আনোয়ার স্যার মহোদয়।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র হালিশহরের গৌরবময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হালিশহর বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয়, যার গর্বিত পথচলায় ৭৭ বছর অতিক্রম করতে চলেছে।

এই বিদ্যাপীঠের ভিত্তি স্থাপন করেন তৎকালীন সময়ের খ্যাতিমান শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মাবুদ সওদাগর মহোদয়।
চট্টগ্রামের হালিশহরের বুকে তাঁর নিজস্ব জমিতে ১৯৪৭ সালে গড়ে ওঠে এই বিদ্যালয়, যা আজ পরিণত হয়েছে এক মহান ঐতিহ্যে। তিনি শুধু এই বিদ্যালয়ই নয়, অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন—যার প্রতিটি চিহ্ন আজও হালিশহরবাসীর গর্ব।

এক সময়ের খ্যাতিমান এই বিদ্যাপীঠে পড়তে আসতেন মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা—কেউ হেঁটে, কেউবা সাইকেল চালিয়ে।
বিদ্যালয়টি ছিল তখনকার সময়ে চট্টগ্রামের অগ্রণী ও বিখ্যাত স্কুলগুলোর একটি। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিদ্যালয়টি উদযাপন করে এর প্লাটিনাম জুবিলী (৭৫ বছর পূর্তি)—যেখানে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেজবান ও আনন্দঘন মিলনমেলার মাধ্যমে।
এই উৎসবে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেন প্রিয় শিক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মামুন স্যার মহোদয়
তাঁর আন্তরিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় অনুষ্ঠানটি পেয়েছিল এক বিশেষ মাত্রা—যা প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে চিরদিন।
শিক্ষকের বিদায় এক অধ্যায়ের ইতি, এক ভালোবাসার বিস্তার

এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের আলোকবর্তিকা ছিলেন আনোয়ার হোসেন মামুন স্যার—যিনি আগামী ৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে অবসরে যাচ্ছেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তিনি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন একজন মেধাবী ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে, যার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা ছাপিয়ে যেত হৃদয়ের সংযোগে।
প্রমিত উচ্চারণে পাঠদান, দেয়ালিকা কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে নেতৃত্ব, এবং মানবিকতা—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন শিক্ষকেরও ঊর্ধ্বে।

তিনি কখনো শিক্ষার্থীর আর্থিক দুর্বলতাকে পড়ালেখার পথে বাধা হতে দেননি।
নীরবে পাশে দাঁড়িয়ে গড়েছেন মানুষের ভিতরকার বিশ্বাস।
তাঁর অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত আছে।

এক ফেসবুক স্ট্যাটাস—হাজারো হৃদয়ের কান্না ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্ত।

অবসরের প্রাক্কালে নিজের অনুভূতির কথা তিনি লিখেছেন ফেসবুকে

বিদায় প্রিয় ভালোবাসার শিক্ষালয়, হালিশহর বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয়। ৩রা জুলাই ২০২৫ আমার শেষ কর্মদিবস। ভাবতেই কেমন আনমনা হয়ে যাই। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের পথচলা… কত কচিমুখ আজ পরিণত। বর্তমান এবং অতীত মিলে আমার সান্নিধ্যে আসা প্রতিটি ছাত্রছাত্রীদের স্মৃতি ধারণ করেই আগামী জীবন বেঁচে থাকতে চাই।
তিনি আরও লিখেছেন—“আমি চেয়েছিলাম নিভৃতে চলে যেতে, কিন্তু তোমাদের ভালোবাসায় আর চুপ থাকা গেল না।”

এই পোস্টটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রছাত্রীদের টাইমলাইনে।
মন্তব্য, স্মৃতিচারণা ও কৃতজ্ঞতাবোধে স্যারের প্রতি ভালোবাসার যে ঢল নেমেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা
আনোয়ার হোসেন মামুন স্যারের শিক্ষা, নিষ্ঠা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধ—বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষকের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবে।
আর প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে তিনি প্রমাণ করে গেছেন—শিক্ষা মানেই মানবিকতা, দায়িত্ব, এবং আলোর পথে হাঁটার দীক্ষা।

স্যার, আপনি যাচ্ছেন, কিন্তু আপনি থেকে যাচ্ছেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের ইতিহাসে।

৭৭ বছরের গৌরবময় হালিশহর বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে আপনি রয়ে যাবেন এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে।
আপনার অবসরকাল হোক প্রশান্তিময়, কল্যাণময় ও প্রার্থনায় পূর্ণ—এই প্রার্থনাই রাখছি হাজারো ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে ভালোবাসা শ্রদ্ধা আজীবন থাকবে বলে আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি কে জানায় প্রাক্তন ছাত্রবৃন্দ।

এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিক আহত, গ্রেপ্তার ১১, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা ও সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা। সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কবির নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের দেলোয়ার হোসেন ও ইনকিলাবের আব্দুল মান্নান রয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

হাফিজুর রহমান,, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

কেশবপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এর জনস্বার্থ বিষয়ক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খান।


Waterproof mobile Cover
01830 393439

সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যের পক্ষে কেশবপুরের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আকরাম খান। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।।