খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

আসুন, সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যু’’র মিছিল বন্ধ করি

​বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬

নিকোলাস বিশ্বাস
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
​বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬

২৫ জুলাই ২০২৬ বিশ্ব ¢পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস¢। এরইমধ্যেসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সাম্প্রতিক সিসিটিভিভিডিও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ছোট শিশু একটি পুকুরে ডুবন্ত অবস্থায়বাঁচার জন্য প্রাণপণ লড়াই করছে। অপরদিকে, আরেকটি শিশু ঐ পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো চিৎকার করছে এবং মরিয়া হয়ে পানিতেবিভিন্ন বস্তু ছুড়ে বন্ধুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আশে-পাশে বাড়িঘরথাকলেও কেউ সেই আর্তনাদ শুনতে পায়নি। অবশেষে পাশের একটি বাড়িথেকে একজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান। কিন্তু শিশুটির শেষপরিণতি কি হয়েছিল, তা ভিডিওটিতে আর জানা যায়নি।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের এক নির্মম বাস্তবতারপ্রতিচ্ছবি। প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, অথচ অধিকাংশঘটনাই সংবাদ শিরোনামে আসে না। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে থাকে একটিপরিবারের বেদনা। বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হওয়া সত্ত্বেওপানিতে ¢ডুবে মৃত্যু¢ এখনো সবচেয়ে অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোরএকটি। সংক্রামক রোগ, অপুষ্টি কিংবা সড়ক দুর্ঘটনা জনস্বাস্থ্য আলোচনায়প্রাধান্য পেলেও পানিতে ¢ডুবে মৃত্যু¢ রয়ে যায় আড়ালে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরমতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এটি সহজেইপ্রতিরোধ করা সম্ভব।

 

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) জরিপ অনুযায়ী, আমাদেরদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যার বড় একটিঅংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। এসব মৃত্যুর সর্বোচ্চ হার বরিশাল অঞ্চলে। অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, জলাভূমি এবং মৌসুমি বন্যাপ্রবণ দেশহওয়ায় বাংলাদেশে পানিতে

Waterproof mobile Cover
01830 393439

ডুবে মৃত্যু¢র ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ মানুষপানিতে ডুবে মারা যায়। বিশ্বব্যাপী পানিতে ¢ডুবে মৃত্যু¢র প্রায় ৯০ শতাংশই ঘটেনিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে এই ঝূঁকি আরোবেড়েছে।

 

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য বিষয়

এই দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য বিষয়বেছে নেওয়া হয়। এবারের বিষয় হল: “Unite to Turn the Tide” – অর্থাৎ, আসুন, সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্রোত থামাই। এটি কেবল একটিআন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য নয়; বরং পানির সঙ্গে আমাদের সহাবস্থানকেআরও নিরাপদ, সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলার একটি বৈশ্বিক আহ্বান। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নেতৃত্বে পরিচালিত বিশ্বব্যাপী এ প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণকরে আসুন আমরা প্রতিরোধযোগ্য ¢পানিতে ডুবে মৃত্যু¢র মিছিল বন্ধ করি এবংনিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় ভূমিকার পালন করি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ নদী, খাল, বিল, হাওর ও পুকুরে সমৃদ্ধ একটি জলভূমির দেশ। পানিআমাদের জীবন, জীবিকা, কৃষি, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তুপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের অভাবেএই জীবনদায়ী পানিই মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক ও বেদনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

 প্রতিদিনের নীরব ঝুঁকি

জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুরঅন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ ঘটনাঘটে বাড়ির কয়েক মিটারের মধ্যেই থাকা পুকুর, ডোবা কিংবা জলাশয়ে। অর্থাৎ বিপদ দূরে নয়, পরিবারের কাছেই ওত পেতে থাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কারণ এ সময় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বাড়ির আঙিনা, রাস্তা ও মাঠ সাময়িক জলাশয়ে পরিণত হয়। অল্প সময়ের জন্যও কোনো ছোটশিশু নজরদারির বাইরে চলে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপূরণীয় দুর্ঘটনাঘটতে পারে। তাই এ সময়টায় সবাইকে বিশেষভাবে সর্তক থাকতে হয়।

 বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার সময়টি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় অভিভাবকরা সাধারণতঃ গৃহস্থালি বা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন, ফলে ছোটশিশুরা অরক্ষিত থেকে যায়। মাত্র দুই বা তিন মিনিটের অসতর্কতা একটিপরিবারের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে যা তাদের জন্য নিয়ে আসতে পারেগভীর শোক আর কান্না।

 পানিতে ডুবে মৃত্যু¢র সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো এর নীরবতা। সিনেমায়যেমন দেখা যায়, বাস্তবে পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষ – বিশেষ করে শিশুরা – সাধারণত হাত নেড়ে বা চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। আশে-পাশেরমানুষের অজান্তেই তারা নীরবে পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (WHO) পানিতে ¢ডুবে মৃত্যু¢কে “নীরব কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য জনস্বাস্থ্যসংকট“ হিসেবে অভিহিত করেছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

 ২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ জুলাইকে সারা বিশ্ব পানিতেডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস¢ হিসেবে ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে বিশ্ব ষ্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে। তাই পানিতে ¢ডুবে মৃত্যু¢ প্রতিরোধকে কেবল মৌসুমিউদ্যোগ নয়, জাতীয় জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারে পরিণত করা উচিৎ।

 কেন এই মৃত্যু থামছে না?

বাংলাদেশে অধিকাংশ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় দৈনন্দিন জীবনের সাধারণপরিস্থিতিতে। বাড়ির পাশের পুকুর, রাস্তার ধারের ডোবা কিংবা বৃষ্টির পানিতেভরা গর্ত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হয়। এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুরাস্বভাবতই কৌতূহলী ও চলাফেরায় সক্রিয় হলেও তারা বিপদের মাত্রা বুঝতে পারেনা। এ সময় রান্না, কাপড় ধোয়া বা অন্য কোনো কাজে সামান্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেঅভিভাবকের অজান্তেই শিশুটি ঝুঁকির মুখে পড়ে যা পরিবার ও সমাজের জন্যঅপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনে।

 বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যও এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বেরবৃহত্তম নদীবাহিত দেশগুলোর একটি হওয়ায় এখানে হাজার হাজার নদী, খাল, বিল ও জলাশয় রয়েছে। বর্ষাকালে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঘনঘন বন্যা চারপাশেনতুন নতুন ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয় সৃষ্টি করে ও বিপদ ডেকে আনে। চলতি বছরেরপ্রবল বৃষ্টিপাত এ বিপদকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।

 প্রতিরোধই একমাত্র সমাধান

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সহজ ও লক্ষ্যভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেইঅসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগপ্রয়োজন। এজন্য নিম্নে উল্লেখিত বিষয়গুলোর উপর দৃষ্টিপাত করা অতীবজরুরি: —

 

১. ছোট শিশুদের কখনোই পানির কাছাকাছি একা না রাখা।

 ২. বাড়ির আশপাশের পুকুর ও ডোবার চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা বা বেড়া নির্মাণকরা।

 ৩. দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক ডে-কেয়ার কেন্দ্রস্থাপন করা।

 ৪. বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সাঁতার শিক্ষা ও পানি নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা।

 ৫. জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধারকৌশল ও কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR)–এর প্রশিক্ষণ দেওয়া।

 বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে, এসব উদ্যোগ কার্যকর। সেন্টার ফরইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (CIPRB) –এর উদ্যোগেপরিচালিত আঁচল (কমিউনিটি শিশুযত্ন মডেল) এবং সুইমসেইফ (SwimSafe) কর্মসূচি শিশুদের পানিতে ¢ডুবে মৃত্যু¢র হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সফলহয়েছে। সমাধান আমাদের জানা আছে; এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং দেশব্যাপী কার্যকর বাস্তবায়ন। গবেষণালব্ধ ফলাফলগুরুত্বের সাথে কাজে লাগানো উচিৎ।

 পানিতে ¢ডুবে মৃত্যু¢ প্রতিরোধকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার এবং দুর্যোগব্যবস্থাপনা – এই চারটি সরকারি খাতের সমন্বিত জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবেগ্রহণ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কাঙ্খিত ফল আসবে না।

 সচেতনতা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ

বিশ্ব ¢পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস¢ যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা বক্তব্যেরমধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; এটি হতে হবে বাস্তব নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা। বাংলাদেশকে এ খাতে সরকারি বিনিয়োগ, গণসচেতনতামূলক প্রচার এবংবিদ্যালয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। পানিতে ডুবে মারাযাওয়া প্রতিটি শিশু একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ – একজন সম্ভাব্য শিক্ষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী কিংবা জাতীয় নেতা – যার স্বপ্ন অকালেই নিভে যায়।

 পানিতে ডুবে কোনো শিশুর মৃত্যু কখনোই কাম্য হতে না। সম্মিলিত সামাজিকউদ্যোগ, নিরাপত্তা শিক্ষা এবং দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাংলাদেশতার শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারে এবং এই নীরব সংকট তথা পানিতে ডুবেমৃত্যু¢র অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে। প্রতিটি শিশুর জীবনই অমূল্য, কোনোঅবস্থাতেই সেই জীবনের মূল্য উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিক আহত, গ্রেপ্তার ১১, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা ও সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা। সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কবির নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের দেলোয়ার হোসেন ও ইনকিলাবের আব্দুল মান্নান রয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

হাফিজুর রহমান,, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

কেশবপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এর জনস্বার্থ বিষয়ক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খান।


Waterproof mobile Cover
01830 393439

সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যের পক্ষে কেশবপুরের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আকরাম খান। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।।