খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

আশুলিয়ায়

মাদক সম্রাট স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, নিয়ন্ত্রণে কিশোর গ্যাং

নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
মাদক সম্রাট স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, নিয়ন্ত্রণে কিশোর গ্যাং

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুরনো গডফাদাররা পালালেও তাদের শূন্যস্থান পূরণে সময় লাগেনি। স্বেচ্ছাসেবক দলের পদ পদবী ব্যবহার করে ঢাকার আশুলিয়ায় পুরো একটি মাদক সাম্রাজ্য ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মো. আব্দুল হালিম বাবু ওরফে হৃদয় দয়াল। তিনি ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এবং দক্ষিণ গাজীরচট আড়িয়ারা মোড় এলাকার মরহুম আহসান উল্লাহ ভাসানীর ছেলে।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, ৫ আগস্টের পর চারালপাড়া ও নলীর পাড় এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় রিপন নামের এক মাদক কারবারি। তার মাদক সিন্ডিকেটের বাধা হয়ে দাঁড়ান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হৃদয় দয়াল। তবে সেই ‘বাধা’ স্থায়ী হয়নি বেশি দিন। জানা যায়, মোটা অঙ্কের ‘মাসিক মাসোহারা’র বিনিময়ে তারা হাত মেলান। কিছুদিন পর রিপন একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হলে তার সিন্ডিকেট ও মাদক স্পটগুলো জোরপূর্বক নিজের দখলে নেন হৃদয় দয়াল। নিজেকে এক শীর্ষ নেতার ভাগনে পরিচয় দিয়ে পুরো এলাকায় তিনি একক আধিপত্য কায়েম করেন।

স্থানীয়দের দাবি ,মাদক স্পটগুলো চালাতে এবং এলাকার আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি মাসিক ও দৈনিক চুক্তিতে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাংকে নিজের ছত্রছায়ায় রাখেন বলে জানা যায়

স্থানীয়রা আরও জানান, নিজের এই অবৈধ রাজত্ব শক্ত করতে তিনি আঁতাত করেন এলাকার কুখ্যাত মাদক কারবারি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজা মোল্লার সঙ্গে। যেই রাজা মোল্লার সৎ মেয়ে ধর্ষণ মামলা, হত্যা মামলা এবং মাদক মামলাসহ অন্যান্য মামলায় বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমন ভয়ংকর দাগি অপরাধীদের নিয়ে বিশাল বাহিনী গড়ে তোলার পর মাদক সাম্রাজ্যে দয়ালকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি মাদক কারবারিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে, ঠিক তখনই নিজেকে বাঁচাতে নতুন চাল চালারও অভিযোগ উঠেছে দয়ালের বিরুদ্ধে। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা সেই রিপনের ওপরই এখন পুরো মাদক ব্যবসার দায় চাপিয়ে নিজে আড়ালে থাকার অপচেষ্টা করছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, অত্যন্ত নিখুঁত কৌশলে কমিশন ও মাসিক চুক্তিতে বিশ্বস্ত সহযোগীদের মাধ্যমে তিনি এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। নলীর পার মাঠে মাদক বিক্রির দায়িত্বে আছেন আরিফ, চারালপাড়া সংলগ্ন লাল পাহাড় মন্দির মাঠে আছেন লিমন এবং ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন এলাকার ডাবতলা মার্কেটের মাদক সিন্ডিকেট চালান ইমন নামের এক যুবক। যারা সবাই এই দয়ালের বিশ্বস্ত। এদের তিন গ্রুপে ১০ থেকে ১২ জন কিশোর গ্যাং সদস্য রয়েছে। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন মুন্না। দৈনিক এক থেকে দেড় কেজি গাঁজা বিক্রি করেন, যা থেকে আনুমানিক লাভ হয় ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। এছাড়াও দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা বিক্রি করে তার সিন্ডিকেট, যেখান থেকে তাদের লাভ হয় ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে মাসে গাঁজা বিক্রি থেকে লাভ হয় ১৫ লাখ থেকে ২১ লাখ টাকা এবং ইয়াবা থেকে লাভ হয় ৯ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

দৈনিক হাজিরায় মাদক বিক্রি করা দুলাল জানান, “আমি আগে তার মাল (মাদকদ্রব্য) বিক্রি করতাম। এখন করি না। আমি যেন তার মাল বিক্রি করি, এজন্য বারবার হুমকি দিচ্ছে। আজকেও বারবার আমাকে হুমকি দিচ্ছে তার পক্ষে একটা ভিডিও করে দেওয়ার জন্য। বর্তমানে আমি তার ভয়ে এলাকার বাইরে আছি।

কী ধরনের ভিডিও চাচ্ছে? জানতে চাইলে দুলাল বলেন, তিনি একজন ভালো লোক, তার সাথে মাদক ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তার হয়ে মাদক ব্যবসা করতাম না-এ ধরনের একটি ভিডিও চাচ্ছে।

হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডে রিকশাচালককে মাদক বহনের জন্য সরাসরি চাপ দিচ্ছেন স্বয়ং হৃদয় দয়াল। সেখানে ওই চালক অপরাধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আকুতি করে বলেন, “আমি ভাই এটার প্রতি থাকতে চাই না। কাজ কাজই, কর্ম কোনো সময় ছোট না। আপনারা বড় মানুষ রাজনীতি করবেন, আর আমি ছোট মানুষ।”

এ বিষয়ে কথা হয় রিপনের মা কুলসুম বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আগে মাদক ব্যবসা করতো, সামাজিকভাবে আমার মান-সম্মান শেষ করে দিয়েছে। তাই পোলারে আমি নিজে অ্যারেস্ট করাইছি। ঘরের দরজা কাটাইয়া ঘরের সব তছনছ কইরা ভাঙচুর করছি, দারোগাকে আইনা হ্যান্ডকাফ লাগাইয়া এলাকাবাসীর সামনে পুলিশে ধরাইছি। পরে ও (রিপন) বন্ডসই (মুচলেকা) দিছে মাদক বিক্রি করবে না। যদি আমার পোলার নামে কেউ মাদক বেচে, ধইরা সাথে সাথে চালান দিবেন। এখন বাবুর নেতৃত্বে মাদক বেচে রাজা মোল্লা, আরিফ, ইমন, লিমন। খোদ বাবুর বাসার সামনেই এখন মাদক বেচাকেনা হয়।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ বাইপাইল এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর পরই এলাকার ভেতরে হৃদয় দয়ালের বাহিনীর তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। মহল্লার প্রতিটা অলিগলিতে তার নির্দিষ্ট লোক থাকে মাদক বিক্রি করার জন্য। তাদেরকে দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা হাজিরা দেওয়া হয়। তার লোকদের মধ্যে কেউ দৈনিক হাজিরায় মাদক বিক্রি করতে অস্বীকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।শুধু মাদকই নয়, এই ‘দয়াল’ নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্রবাজি ও নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ।

সম্প্রতি চারালপাড়ার এক ব্যবসায়ীকে সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে মীমাংসার নামে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এর আগে প্রকাশ্যে এক নারীর ওপর হামলা এবং নবীনগর এলাকায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন এই হৃদয় দয়াল।

এতসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আব্দুল হালিম বাবু ওরফে হৃদয় দয়ালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রতিবেদককে তার অফিসে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযুক্ত দয়ালের সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আমাদের দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিপূর্বেই সে বহিষ্কার হয়ে রয়েছে। সে আমাদের দলের কেউ না। সুতরাং এই বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই।”

ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নতুন করে আসা সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের অতি দ্রুত আবারও আইনের আওতায় আনা হবে।’

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৬ মার্চ জাতীয় স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গেলে ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম সুমনের ওপর হামলা চালায় একটি গ্রুপ। সেই হামলার সাথে আব্দুল হালিম বাবু ওরফে হৃদয় দয়াল জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ (শুক্রবার) তার বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম সুমনের সমর্থকরা।

এরপর গত বছরের ২৩ এপ্রিল মোহাম্মদ আলী আকবর হোসেন নামে এক ইলেকট্রিক কনট্রাক্টরকে কৌশলে জঙ্গলে নিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়াসহ আট হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা জেলা কমিটির সদস্য মো. হালিম বাবু ওরফে দয়ালের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল হালিম বাবুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই সাথে দলের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এরপরে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাকে পুনরায় স্বপদে বহাল করে একটি নোটিশ জারি করা হয়।

চৌগাছায় গাছি সমাবেশে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক

খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে সরকারের উদ্যোগ।

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে সরকারের উদ্যোগ।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেছেন, চৌগাছায় খেজুরে গুড় সংরক্ষণ, গাছিদের সহযোগিতা, গুড়ের বাজারজাতকরণে সরকারের পরিকল্পনার রয়েছে। গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে উদ্যোগ নেবে সরকার। ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের মধ্যে চৌগাছা উপজেলাকে বেছে নিয়েছেন। তাই পিছনে ফিরে তাকানোর দরকার নেই। কৃষির উন্নয়নের জন্য উপজেলায় অনেক কিছু করা হবে। সেটা দ্রুতই হবে। তিনি সোমবার সকাল ১১:৩০ মিনিটে উপজেলার ০৭ নং পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামের ঘুয়াখালী নামক বাওড় সংলগ্ন বটতলায় জি আই পণ্য খেজুরের গুড় উৎপাদনকারী গাছিদের সমাবেশ ও খেজুরের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রশাসক বলেন, বেশি বেশি খেজুর গাছ লাগাতে হবে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছোট ছোট কাজকে বেশি পছন্দ করেন। কারণ ক্ষুদ্র কাজগুলো সুন্দরভাবে করলে গোটা বাংলাদেশের উন্নয়ন ভালো হওয়া সম্ভব। অত্র অঞ্চল খেজুর গুড়ের পাশাপাশি সবজি ও বিভিন্ন ফলের জন্য বিখ্যাত। কৃষকের কথা চিন্তা করে অত্র অঞ্চলে মিনি কোল্ড স্টোর নির্মাণ করা হবে।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

তিনি গাছিদের উদ্যেশ্যে বলেন, দেশে বড় একটি সমস্যা নিপা ভাইরাস। খেয়াল রাখতে হবে বাদুড় থেকে যেন নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি বলেন, খেজুরের রস থেকে শুধু গুড়ই উৎপাদন হয়না। এ থেকে বিভিন্ন সিরাপ ও খাদ্য তৈরি হয়। গুড়ের সাথে সেগুলো আমরা বিদেশে রপ্তানি করব। কয়েকজন উদ্যোক্তার সাথে কথা হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে আন্তরিক। তিনি বলেন খেজুর গাছের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকল পেশাজীবীদের সহযোগিতা করতে হবে।

সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. মোঃ গোলাম মোর্শেদ, গাছি মিজানুর রহমান বাবু, গাছি আব্দুল রহমান গাজী প্রমূখ।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনিব, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী বাবুল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার রাজু আহাম্মেদ, কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলি আকবর, বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম সহ দুইশো জন গাছি উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি খেজুর গাছ চাষিদের মধ্যে খেজুর গাছের চারা ও ১২ জন গাছির মধ্যে ভাঁড় ও গাছি দা বিতরণ করেন।

এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিক আহত, গ্রেপ্তার ১১, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা ও সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা। সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কবির নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের দেলোয়ার হোসেন ও ইনকিলাবের আব্দুল মান্নান রয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।