খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

পদ্মার চরে লাশের মিছিল: নেপথ্যে কাকন বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
পদ্মার চরে লাশের মিছিল: নেপথ্যে কাকন বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল

রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মার চরে চলছে লাশের মিছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাকন গ্রুপের এক সদস্য জানান, ‘হঠাৎ কিছুদিন ধরে একের পর এক গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূলত কাকনের অবর্তমানে বাহিনী পরিচালনায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মিলন চৌধুরীর বাহিনী ও ঝড়ু মস্তানের মৃত্যুর পর ঝড়ুরদায়িত্ব প্রাপ্ত আবু বক্কর ওরফে কিলার বক্কার বাহিনীর মধ্যে ১৫ তারিখ দিবাগত রাত থেকে শুরু করে পরেরদিন ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অবৈধ বালু উত্তোলনের টাকা তোলার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে হত্যাকান্ড সংগঠিত হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্যমতে, ‘বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কাকন বাহিনীর চার জেলার পদ্মার চরে ছিল একক আধিপত্য । তখন সরাসরি আওয়ামীলীগ নেতাদের প্রত্যক্ষ সমর্থন থাকার কারনে ইঞ্জিনিয়ার কাকন গড়ে তোলেন বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী । আর এই বাহিনী দিয়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন চার জেলার পদ্মা চরের উর্বর ফসলের জমি, বালু মহাল, চোরাচালান ও মাদকের রমরমা কারবার। বিগত আওয়ামীলীগের সরকারের সময়ও এই নদী এবং বিস্তীর্ণ চর এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাকন এবং মিলন বাহিনীর দ্বন্দ্ব হয়েছিল। তখন কাকন বাহিনীর লোক মিলন চৌধুরীর বাড়িতে গুলি করেও এসেছিল । পরবর্তীতে কিছু ব্যবসায়িক এবং আওয়ামীলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয় এবং পুনরায় কাকনের নেতৃত্বে নদী এবং চরের সমস্ত অনৈতিক কাজ একসঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছিল । কিন্তু ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা সবাই পালিয়ে গেলে কাকনের সম্রাজ্য কিছুটা হুমকির মুখে পড়ে। মিলন চৌধুরী যুবলীগের নেতা হওয়ায় তার অবস্থাও চারিদিকে টালমাটাল হয়ে ওঠে ।

যোগোযোগ: ০১৮৩০৩৯৩৪৩৯

কিন্তু সুচতুর কাকন পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই বিএনপির কিছু অসৎ রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও প্রশাসনকে হাত করে নিয়ে পদ্মা চরের বালু মহাল থেকে শুরু করে সবকিছুতে তারই নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করে । ৫ই আগস্টের আগের মত স্থানীয় কৃষক , রাখাল, মাছ ধরার জেলেসহ নদী পাড়ের বাসিন্দা ও নদীকেন্দ্রিক সাধারণ মানুষের (জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস) উপর চাঁদা নির্ধারণ করতে শুরু করে। যা ৫ই আগস্টের পর এমন অত্যাচার অনেকেই মেনে নিতে চায়নি। তাই যেখানেই আধিপত্য বিস্তার করতে চেষ্টা করেছে সেখানেই সাধারণ মানুষ সাহস করে এই কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শুরু করে এবং মামলা করে বসে। ফলে প্রশাসনও নড়েচড়ে বসে। পরিচালিত হয় বেশ কিছু অভিযান। তেমনই গত ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায় অসৎ রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও প্রশাসনকে হাত করে নেওয়ার চিত্র।

যোগাযোগ ০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

সেখানে দেখা যায় বালু মহালে কাকনের অংশীদার হলো- ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন চৌধুরী, লালপুর উপজেলা বিএনপি নেতা শিল্পী, ভেড়ামারার বিএনপি নেতা ফাহাদ, বিপ্লব মালিথা, হেলাল, বাগাতিপাড়া উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মোল্লা, আরআরপি গ্রুপের পরিচালক রফিক। আরও উঠে আসে সাংবাদিক পায়েল হোসেন রিন্টুর নাম। এছাড়াও উঠে আসে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া মাসোহারার তালিকা।’
‘কিন্তু এতগুলো ভিন্নমতের ব্যক্তিদের মধ্যে ঐক্য ঠিক রাখতে পারেনি কাকন। মাঝে মাঝেই বালুর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হত মনোমালিন্য।’
‘এরমধ্যে গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ দৌলতপুরের পদ্মা নদীর দুর্গম চরে এই বাহিনীর গুলিতে দুই কৃষক নিহত হলে দেশের শীর্ষ পত্রিকা ও টিভিতে কাকনের ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে প্রশাসন অপারেশন ফার্স্ট লাইট নামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এরপর থেকে কাকন আত্মগোপনে চলে যায়।’
‘তারপর আবার চলতি বছরে লালপুরের দিয়াড়বাহাদুপুর বালু মহাল সরকারিভাবে ইজারা দেয়নি। ফলে আরও বিপাকে পড়তে হয় কাকনকে। এখন রাতের আধারে চুরি করে বালু উত্তোলন করতে হচ্ছে কাকন বাহিনীকে।’
‘পূর্বের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে অংশীদারদের মধ্যে কোন্দল ছিলই তারপর বর্তমানে চুরি করে বালু উত্তোলন ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অবিশ্বাস ও কোন্দল চরমে পৌছেছে। এর ফলে পদ্মার চরে একের পর এক ঝড়ছে তাজা প্রাণ।’
‘সম্প্রতি কাকন বাহিনীর অন্যতম নেতা আজিজুল হক ঝড়ু মস্তান নিহত হলে তার স্থলে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব পান আবু বক্কর ওরফের কিলার বক্কার। অপরদিকে কাকনের অপর আরেক সহযোগী ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন চৌধুরীর পূর্ব থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছিল।’
‘ঝড়ু মস্তানের মৃত্যুর পরে নিজেদের মধ্যে অবিশ্বাসের কারনে চরে বেশ কিছু গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এরমধ্যে গত ১৫ জুন রাতে লালপুরের রাইটার চরে চুরি করে বালু উত্তোলন করা হয়। ভোরে সেই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে যুবলীগের মিলন চৌধুরী বাহিনীর লোক ও কিলার বক্কারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সকাল ৭ টার দিকে বক্কার মিলন চৌধুরীর লোকজনের উপর হামলা করলে সাহাবুল প্রামাণিক (৪২) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং আরেকজন নিখোঁজ হয়।’

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে কিলার বক্কার ও মিলন চৌধুরী বাহিনীর মধ্যে কোন্দল চরম আকার ধারন করেছে।’
এদিকে শাহাবুলের মৃতদেহ পাওয়ার বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকান্ডের ঘটনা সংক্রান্ত আমরা কোন সূত্র এখনো পাইনি, শুধুমাত্র লাশ পেয়েছি। এটা খুন কিনা না এটা আমরা কনফার্ম না। যেহেতু ঘটনাস্থল নৌ পুলিশের আন্ডারে, তাই লক্ষ্মীকুন্ড নৌ পুলিশ ফাড়ি লাশ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। ময়নাতদন্ত হবে। এরপরে পরবর্তীতে যদি কেউ মামলা দিলে আমরা আইন অনুযায়ী সেই মামলার জুরিসডিকশনে তদন্তের জন্য লক্ষ্মীকুন্ড নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে দেবো।’
এবিষয়ে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, ‘দুপুর ১২ টার দিকে লালপুর থানা কর্তৃক বিষয়টি জানতে পারি। পরে আশেপাশে খোঁজাখুঁজির সময় লালপুর রায়টা উত্তর চরে ভাসমান নৌকার ভিতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্টের জন্য থানা হেফাজতে রাখা আছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

চৌগাছায় গাছি সমাবেশে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক

খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে সরকারের উদ্যোগ।

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে সরকারের উদ্যোগ।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেছেন, চৌগাছায় খেজুরে গুড় সংরক্ষণ, গাছিদের সহযোগিতা, গুড়ের বাজারজাতকরণে সরকারের পরিকল্পনার রয়েছে। গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে উদ্যোগ নেবে সরকার। ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের মধ্যে চৌগাছা উপজেলাকে বেছে নিয়েছেন। তাই পিছনে ফিরে তাকানোর দরকার নেই। কৃষির উন্নয়নের জন্য উপজেলায় অনেক কিছু করা হবে। সেটা দ্রুতই হবে। তিনি সোমবার সকাল ১১:৩০ মিনিটে উপজেলার ০৭ নং পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামের ঘুয়াখালী নামক বাওড় সংলগ্ন বটতলায় জি আই পণ্য খেজুরের গুড় উৎপাদনকারী গাছিদের সমাবেশ ও খেজুরের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রশাসক বলেন, বেশি বেশি খেজুর গাছ লাগাতে হবে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছোট ছোট কাজকে বেশি পছন্দ করেন। কারণ ক্ষুদ্র কাজগুলো সুন্দরভাবে করলে গোটা বাংলাদেশের উন্নয়ন ভালো হওয়া সম্ভব। অত্র অঞ্চল খেজুর গুড়ের পাশাপাশি সবজি ও বিভিন্ন ফলের জন্য বিখ্যাত। কৃষকের কথা চিন্তা করে অত্র অঞ্চলে মিনি কোল্ড স্টোর নির্মাণ করা হবে।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

তিনি গাছিদের উদ্যেশ্যে বলেন, দেশে বড় একটি সমস্যা নিপা ভাইরাস। খেয়াল রাখতে হবে বাদুড় থেকে যেন নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি বলেন, খেজুরের রস থেকে শুধু গুড়ই উৎপাদন হয়না। এ থেকে বিভিন্ন সিরাপ ও খাদ্য তৈরি হয়। গুড়ের সাথে সেগুলো আমরা বিদেশে রপ্তানি করব। কয়েকজন উদ্যোক্তার সাথে কথা হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে আন্তরিক। তিনি বলেন খেজুর গাছের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকল পেশাজীবীদের সহযোগিতা করতে হবে।

সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. মোঃ গোলাম মোর্শেদ, গাছি মিজানুর রহমান বাবু, গাছি আব্দুল রহমান গাজী প্রমূখ।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনিব, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী বাবুল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার রাজু আহাম্মেদ, কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলি আকবর, বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম সহ দুইশো জন গাছি উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি খেজুর গাছ চাষিদের মধ্যে খেজুর গাছের চারা ও ১২ জন গাছির মধ্যে ভাঁড় ও গাছি দা বিতরণ করেন।

এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিক আহত, গ্রেপ্তার ১১, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা ও সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা। সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কবির নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের দেলোয়ার হোসেন ও ইনকিলাবের আব্দুল মান্নান রয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।