খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

আনোয়ারার এক উপকূলীয় ইউনিয়ন থেকেই হলেন পাঁচ বিসিএস ক্যাডার

শেখ শহীদুল হক বাবলু নিজস্ব প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
আনোয়ারার এক উপকূলীয় ইউনিয়ন থেকেই হলেন পাঁচ বিসিএস ক্যাডার

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন, বঙ্গোপসাগর ও সাঙ্গু নদে ঘেরা উপকূলীয় এক অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর নদীভাঙনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও গেলো কয়েকবছরে এই ইউনিয়ন থেকে পাঁচজন তরুণ বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। এতে এলাকায় যেমন আনন্দের জোয়ার, তেমনি জেগেছে নতুন আশার আলো।

রায়পুর ইউনিয়নের মানুষ মূলত মাছধরা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দিনমজুরির সঙ্গে যুক্ত। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পেরোতে পারে না। তবুও এই পাঁচ তরুণের সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, ইচ্ছা আর অধ্যবসায় থাকলে সীমাবদ্ধতা বাধা নয়।

এই পাঁচজন বর্তমানে দেশের প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে দায়িত্বে আছেন। তাঁরা হলেন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজীব তালুকদার (৩৮তম বিসিএস, প্রশাসন), জেলা প্রশাসকের কার্যালয় রাজশাহীতে কর্মরত নুরুল আবছার সবুজ (৪৩তম বিসিএস, প্রশাসন), বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান আমজাদ (৪৩তম বিসিএস, পুলিশ), ৪৪তম বিসিএস (এডমিন) ক্যাডার সালমান হায়দার এবং শেষবার গেলো মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলে ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মুহাম্মদ আশরফ আলী।

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মুহাম্মদ আশরফ আলী বলেন, “৯১ সালের প্লাবনে আমার চার ভাই ও এক বোন পানিতে ভেসে যায়। তাঁদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। আল্লাহর রহমতে মা বেঁচে যান, বাবা ছিলেন শহরে। সেই শোকে আমার পরিবার প্রায় ভেঙে পড়ে। এক বছর পর আমার জন্ম। তাই আমি পরিবারের আদরের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই মনে হতো, আমাকে বাঁচতে হবে তাদের স্বপ্ন হয়ে। মাদ্রাসা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শুরু করলেও কখনো হাল ছাড়িনি। আজ যখন দেখি, সেই গ্রাম থেকে আমি শিক্ষক ক্যাডারে নির্বাচিত হয়েছি। মনে হয়, আমার সফলতা কেবল আমার নয়, পুরো গ্রামের।’

আশরাফের ছোট ভাই মোশাররফ আলী বলেন, ‘আমরা পিঠাপিঠি ভাই। ওর সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। নিজের ভাই হয়েও তার পরিশ্রমে আমি অনুপ্রাণিত হই। ওর সাফল্যে শুধু আমাদের পরিবার নয়, পুরো গ্রাম উৎসব করছে।’

আশরাফের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৮বছর আগে বাবা হারান তিনি। তিন ভাই ও মা কে নিয়ে বসবাস তার। তিনি ১ম-৫ম শ্রেনি পর্যন্ত পশ্চিম রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন৷ পরে, আবার মাদ্রাসায় ভর্তি হন ২য় শ্রেণিতে। ২য়-৮ম শ্রেণি পর্যন্ত রায়পুর গাউছিয়া হাশেমীয়া আলিম মাদ্রাসা। পঞ্চম শ্রেণিতে সরকারি বৃত্তিও পেয়েছিল বলে জানান তার পরিবার।

আরও জানান, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা আলিম পাশ করেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেন।

একই ইউনিয়নের সন্তান, বর্তমানে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত সজীব তালুকদার বলেন, ‘দারিদ্র্য ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বেড়ে উঠলেও বাবা-মা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা আর নিজের পরিশ্রমে তিনি প্রশাসনে যোগ দিতে সক্ষম হয়েছেন। সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত পড়াশোনা।’

নতুন প্রজন্মের প্রতি পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নিজের অবস্থান ও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।’

সহকারী কমিশনার নুরুল আবছার সবুজের মন্তব্য তাঁর পরীক্ষার ব্যস্ততার কারণে পাওয়া যায়নি। পরে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান আমজাদ বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি। ৪৪তম বিসিএস (এডমিন) ক্যাডারে সালমান হায়দার আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, সালমান হায়দার রায়পুর গহিরার সন্তান। সে ছোটবেলা থেকেই পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করতো। সে গহিরার স্থায়ী বাসিন্দা। আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করছি।
সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান আমজাদের মামা ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমার ভাগিনা বর্তমানে ট্রেনিং এ আছে। তার সাফল্যে আমরা পুরো আনোয়ারাবাসী গর্বিত। উপকূলীয় এলাকা হওয়া স্বত্বেও এখানকার অভিভাবকরা তাদের নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালান। তাই, এখন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বনামধন্য স্কুল কলেজে এখানকার সন্তানেরা পড়াশোনা করছে। যার ফলশ্রুতিতে এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন বয়ে এসেছে।

রায়পুর গাউছিয়া হাশেমিয়া আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের এলাকার অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক অসচ্ছলতা ও অভিভাবকদের অবহেলার কারণে মাধ্যমিক শেষ করতে পারে না। কিন্তু এই চারজন প্রমাণ করেছে, চেষ্টা থাকলে কিছুই অসম্ভব নয়। ওদের দেখে এখন গ্রামের ছেলেমেয়েরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখছে।’

চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আশরাফ আলী আমার কাছে আরবি ভাষা শিখত। আমি তাকে প্রথমে যেভাবে পেয়েছি তখনই বলেছিলাম তার আত্মবিশ্বাস ও একনিষ্ঠতা একদিন তাকে ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে, সে আজ তাই করে দেখিয়েছে। তার সাফল্যে আমি সত্যিই গর্বিত।’

রায়পুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল আলম বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে দারিদ্র্য ও দূর্যোগপূর্ণ এলাকায় প্রকৃতির সাথে লড়াই করে এখানে শিক্ষার্থীদের বেড়ে উঠতে হচ্ছে, এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও বিসিএস শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিভাগে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের এই সফলতায় আমরা গর্বিত, তাদের জন্য দোয়া রইল।’

স্থানীয় অভিভাবক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘আমাদের জীবনে কষ্টের শেষ নেই। কিন্তু এখন মনে হয়, কষ্ট সার্থক হয়েছে। গ্রামের ছেলেরা আজ বড় অফিসার। আমি চাই, আমার মেয়েও একদিন ওদের মতো হোক।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু ছৈয়দ বলেন, ‘একসময় রায়পুর মানেই ছিল নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ ভাঙন আর কষ্টের গল্প। এখন শুনি, এখানকার ছেলেরা বিসিএস ক্যাডার হয়েছে, বুকটা গর্বে ভরে যায়। ওরা দেখিয়ে দিয়েছে, উপকূলের সন্তানরাও পারবে যদি সুযোগ পায়।’

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই চারজনের সাফল্য শুধু চারটি পরিবারের নয়, পুরো ইউনিয়নের গর্ব। তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো তেমনটা নয়, তারা শিক্ষাদানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছে। এসএসসির পরে কেউ এখানে ছিল না তারা শহরে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছে। ফলে তাদের এই সাফল্য ধরা দিয়েছে। উপকূলের সন্তানদের সুযোগ দিলে ওরাও অনেক দূর যেতে পারবে।’
রায়পুর ইউনিয়নের চার তরুণের এই সাফল্য এখন গ্রামের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়রা বলছেন, উপকূলের সন্তানরা চাইলেই বড় কিছু করতে পারে। এই বিশ্বাসই রায়পুরের সবচেয়ে বড় অর্জন।

চৌগাছায় গাছি সমাবেশে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক

খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে সরকারের উদ্যোগ।

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে সরকারের উদ্যোগ।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেছেন, চৌগাছায় খেজুরে গুড় সংরক্ষণ, গাছিদের সহযোগিতা, গুড়ের বাজারজাতকরণে সরকারের পরিকল্পনার রয়েছে। গাছিদের স্বাবলম্বী ও মূল্যায়ন করতে উদ্যোগ নেবে সরকার। ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের মধ্যে চৌগাছা উপজেলাকে বেছে নিয়েছেন। তাই পিছনে ফিরে তাকানোর দরকার নেই। কৃষির উন্নয়নের জন্য উপজেলায় অনেক কিছু করা হবে। সেটা দ্রুতই হবে। তিনি সোমবার সকাল ১১:৩০ মিনিটে উপজেলার ০৭ নং পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামের ঘুয়াখালী নামক বাওড় সংলগ্ন বটতলায় জি আই পণ্য খেজুরের গুড় উৎপাদনকারী গাছিদের সমাবেশ ও খেজুরের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রশাসক বলেন, বেশি বেশি খেজুর গাছ লাগাতে হবে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছোট ছোট কাজকে বেশি পছন্দ করেন। কারণ ক্ষুদ্র কাজগুলো সুন্দরভাবে করলে গোটা বাংলাদেশের উন্নয়ন ভালো হওয়া সম্ভব। অত্র অঞ্চল খেজুর গুড়ের পাশাপাশি সবজি ও বিভিন্ন ফলের জন্য বিখ্যাত। কৃষকের কথা চিন্তা করে অত্র অঞ্চলে মিনি কোল্ড স্টোর নির্মাণ করা হবে।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

তিনি গাছিদের উদ্যেশ্যে বলেন, দেশে বড় একটি সমস্যা নিপা ভাইরাস। খেয়াল রাখতে হবে বাদুড় থেকে যেন নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি বলেন, খেজুরের রস থেকে শুধু গুড়ই উৎপাদন হয়না। এ থেকে বিভিন্ন সিরাপ ও খাদ্য তৈরি হয়। গুড়ের সাথে সেগুলো আমরা বিদেশে রপ্তানি করব। কয়েকজন উদ্যোক্তার সাথে কথা হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে আন্তরিক। তিনি বলেন খেজুর গাছের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকল পেশাজীবীদের সহযোগিতা করতে হবে।

সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. মোঃ গোলাম মোর্শেদ, গাছি মিজানুর রহমান বাবু, গাছি আব্দুল রহমান গাজী প্রমূখ।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনিব, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী বাবুল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার রাজু আহাম্মেদ, কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলি আকবর, বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম সহ দুইশো জন গাছি উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি খেজুর গাছ চাষিদের মধ্যে খেজুর গাছের চারা ও ১২ জন গাছির মধ্যে ভাঁড় ও গাছি দা বিতরণ করেন।

এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিক আহত, গ্রেপ্তার ১১, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা ও সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা। সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কবির নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের দেলোয়ার হোসেন ও ইনকিলাবের আব্দুল মান্নান রয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।