খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

কবিয়াল রমেশ শীলকে জাতীয় লোককবি ঘোষণার দাবী

শেখ শহীদুল হক বাবলু নিজস্ব প্রতিনিধি চট্টগ্রাম।
প্রকাশিত: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:০১ অপরাহ্ণ
কবিয়াল রমেশ শীলকে জাতীয় লোককবি ঘোষণার দাবী

​গণমানুষের কবি, সংগ্রামের বাতিঘর: কবিয়াল রমেশ শীলকে জাতীয় কবি ঘোষণার দাবি

​বাংলাদেশের লোকসাহিত্য ও গণসংগীতের আকাশে কবিয়াল রমেশ শীল (১৮৭৭-১৯৬৭) এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। তিনি কেবল একজন কবিয়াল ছিলেন না, ছিলেন গণমানুষের কণ্ঠস্বর, যিনি ঐতিহ্যবাহী কবিগানকে পুঁথিগত পৌরাণিক আখ্যানের গণ্ডি থেকে মুক্ত করে সমাজ-সচেতনতা, প্রতিবাদ ও সংগ্রামের হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন। তাঁর এই যুগান্তকারী অবদানের জন্য এবং বাংলার গণ-জাগরণে তাঁর অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে জাতীয় কবি ঘোষণার দাবি আজ অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়ের দাবি।
​১. কবিগানের রূপকার ও সমাজ-সচেতনতার প্রতীক
​ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন: রমেশ শীল প্রথাগত কবিগানে পৌরাণিক বিষয়বস্তুর পরিবর্তে সমসাময়িক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা, যেমন—মহাজনি শোষণ, দুর্নীতি, দুর্ভিক্ষ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, ভাষা আন্দোলন এবং নূরুল আমিন বিরোধী আন্দোলনকে উপজীব্য করেন।
​প্রতিবাদী কণ্ঠ: তাঁর গান ছিল কৃষক-শ্রমিক-বঞ্চিত মানুষের জয়গান। ব্রিটিশের শোষণ, পাকিস্তানের স্বৈরাচার এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর গান রণতূর্য বা রণভেরীর মতো কাজ করেছে। যেমন: “বাংলার জন্য জীবন গেলে হব স্বর্গবাসী / আমার বাংলার দাবি ঠিক থাকিবে যদিও হয় ফাঁসি”।
​কারাবরণ: প্রগতিশীল ও সংগ্রামী ভূমিকার কারণে তিনি ১৯৫৪ সালে কারাবরণও করেন, যা তাঁর আপোষহীন চেতনার প্রমাণ দেয়। পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত রচনার লোভনীয় প্রস্তাবও তিনি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
​২. অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক চেতনার ধারক
​মানবতার জয়গান: রমেশ শীল ছিলেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্ত মনের অধিকারী। তিনি দ্বিধাহীনভাবে ঘোষণা করেন— “হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান বৌদ্ধ সকল ধর্মের এক কথা” এবং “মাটির মূর্তির পূজা ছেড়ে মানুষ পূজা কর”।
​মাইজভাণ্ডারী গানের সাধক: তিনি মাইজভাণ্ডারী তরিকার আধ্যাত্মিক গানেরও অন্যতম রূপকার। তাঁর রচিত মাইজভাণ্ডারী গানগুলো (যেমন: ‘ইস্কুল খুইলাছে রে মওলা, ইস্কুল খুইলাছে’) আঞ্চলিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
​৩. জাতীয় স্বীকৃতির অপরিহার্যতা
​কবিয়াল রমেশ শীল তাঁর জীবদ্দশাতেই কিংবদন্তির খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁকে ১৯৬২ সালে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি শ্রেষ্ঠ লোককবির সম্মানে ভূষিত করে এবং ২০০২ সালে তিনি মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন।
​তবে, তাঁর কর্মের বিশালতা এবং স্বাধীনতাকামী জনতাকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা বিবেচনা করে, এই সম্মান যথেষ্ট নয়। জাতীয় কবি ঘোষণা তাঁকে লোকসাহিত্যের একজন শিল্পী হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাঙালি জাতিসত্তা গঠনে এবং গণমানুষের চেতনায় আলো ছড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর সর্বব্যাপী ভূমিকাকেই চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেবে।
​উপসংহার
​রমেশ শীল আমাদের লোকসংস্কৃতির মূলধারাকে আধুনিক প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর গান বাংলার মাটির গন্ধ বহন করে, মানুষের দুঃখ-বেদনার কথা বলে। তিনি ছিলেন একাধারে কবিয়াল, সাধক ও রাজনৈতিক কর্মী। এমন একজন মহৎ কবিকে জাতীয় কবির আসনে বরণ করে নেওয়া আমাদের জাতীয় কর্তব্য।
​আমরা বিশ্বাস করি, গণমানুষের এই কবিকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে তাঁর প্রাপ্য সম্মান প্রতিষ্ঠা হবে।

এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিক আহত, গ্রেপ্তার ১১, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে শ্রমিক-পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা ও সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে এক বিজিবি সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা। সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কবির নামের এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে নাগরিক টেলিভিশনের দেলোয়ার হোসেন ও ইনকিলাবের আব্দুল মান্নান রয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

হাফিজুর রহমান, কেশবপুর, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ।

যশোরের কেশবপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার মূলগ্রামের মো. আমিনুর রহমান (৪৩) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ১০৯৬ নম্বর খতিয়ান এবং এসএ ১১৬৮ নম্বর দাগের (আরএস খতিয়ান নং-১৮০, আরএস দাগ নং-২৮৯৮) ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ওই জমি বাদীর পিতা মৃত আইয়ুব আলী সানা ১৯৮৬ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে বিবাদীরা ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ১নং বিবাদী মো. জিয়ার সরদারের নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীদের কু-পরামর্শে বাদীর ১০ শতক জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে প্রায় ৪০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়।

এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্ত হলেন মো. জিয়ার সরদার (৩০), মো. হযরত আলী সরদার (৬৫), মো. আঃ গণি সরদার (৬২), মো. ওসমান সরদার (৪৯), মো. তুরফান সরদার (৫৫), মোসা. সখিনা বিবি (৪৭), সুজন বিবি (৫৩), হাজেরা খাতুন (৪৫) এবং তারাজান বিবি (৫০); সকলের বাড়ি কেশবপুর থানার ভোগতী নরেন্দ্রপুর এলাকায়।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

হাফিজুর রহমান,, যশোর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
যশোর-৬ আসনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতানা আহমেদ এর প্রতিনিধি আকরাম খান

কেশবপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এর জনস্বার্থ বিষয়ক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খান।


Waterproof mobile Cover
01830 393439

সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যের পক্ষে কেশবপুরের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আকরাম খান। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।।