* ইংরেজি-আইসিটিতে দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট ও মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রভাব। অনেক কলেজে আইসিটি বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষক নেই।
* শুধু পাসের হার কমই নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
* অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ধারিত রুব্রিক্স পদ্ধতি অনুসরণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

01830 393439
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১৪ বছরের মধ্যে এবার সর্বনিম্ন পাসের হার এবং গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে এ বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। শুধু পাসের হার কমই নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কমে যাওয়া, সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লেখার দক্ষতার অভাব এবং তিন পার্বত্য জেলার পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে এ বিপর্যয়ের নেপথ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাগুলো সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ধারিত রুব্রিক্স পদ্ধতি অনুসরণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব কারণের আড়ালে শিক্ষার গুণগত মান, পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা অর্জনের ঘাটতি কতটা দায়ী, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফলঃ

০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ২৮৩টি কলেজের ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পাসের হার সামান্য কমলেও সামগ্রিক ফলাফলের মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে।
পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই এমন নিম্নমুখী প্রবণতা শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এবার ২২ হাজার ১১৪ জন পরীক্ষার্থী এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন। পরীক্ষায় বহিষ্কার হয়েছেন একজন। বোর্ডের ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ইংরেজি ও আইসিটিতে বড় ধাক্কাঃ

ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজিতে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং আইসিটিতে ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে ইংরেজিতে ৩৪ হাজার ১৭৭ জন এবং আইসিটিতে ২৬ হাজার ৫৯৭ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন।
দুটি বিষয়ই আবশ্যিক হওয়ায় এসব বিষয়ে অকৃতকার্যের উচ্চ হার সামগ্রিক পাসের হার কমিয়ে দিয়েছে।
কেন আবশ্যিক দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের এমন দুর্বলতা, তার ব্যাখ্যায় শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, অনেক কলেজে আইসিটি বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষক নেই। কোথাও খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই যতটুকু সম্ভব পড়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। অন্যদিকে ১২ বছর ইংরেজি পড়াশোনা করেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের ভাষাগত দক্ষতা তৈরি হচ্ছে না।
তার এ বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট ও পাঠদানের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে আইসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা এবং দীর্ঘ শিক্ষাজীবনেও ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে না পারা দেশের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তিন পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ চিত্রঃ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে তিন পার্বত্য জেলার দুর্বল ফলাফলও বড় ভূমিকা রেখেছে। জেলার ভিত্তিতে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৪১ দশমিক ২৪ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে পাসের হার মাত্র ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গত বছর ছিল ৩৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বান্দরবানে পাসের হার ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ।
অর্থাৎ তিন পার্বত্য জেলার কোনো জেলাতেই পাসের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে খাগড়াছড়ির ফলাফল সবচেয়ে উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ হলেও মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এ হার ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এতে মহানগর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার সুযোগ, পাঠদানের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর মতে, পার্বত্য অঞ্চলে অনেক শিক্ষার্থীকে ২০ থেকে ৩০ মাইল দূর থেকে কলেজে আসতে হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাস করা তাদের পক্ষে কঠিন। দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকটও সেখানে বড় সমস্যা। বিশেষ করে সৃজনশীল চিন্তা, বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ ও নেতৃত্বের মতো দক্ষতা বিকাশে প্রয়োজনীয় যোগ্য শিক্ষকও পর্যাপ্ত নেই।
সৃজনশীলতা নয়, গাইডনির্ভর পড়াশোনাঃ
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পর্যবেক্ষণে শিক্ষার্থীদের উত্তর লেখার দক্ষতার ঘাটতিও ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারলেও প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্নের উত্তরে প্রয়োজনীয় যুক্তি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে পারেন না।
বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী গাইডনির্ভর পড়াশোনায় অভ্যস্ত। ফলে মুখস্থ করা তথ্যের বাইরে গিয়ে নিজের ভাষায় বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লেখার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—দীর্ঘদিন ধরে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান ও পরীক্ষা চললেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা কেন প্রত্যাশিত মাত্রায় গড়ে উঠছে না?

চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং পড়াশোনার পরিবেশ ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চট্টগ্রাম কলেজে মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষকদের নিবেদিত প্রচেষ্টার কারণে তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত সুবিধা নেই, শিক্ষকসংকট রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষমুখী নয়, সেখানে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
অভিন্ন প্রশ্ন ও রুব্রিক্স মূল্যায়নে কমেছে নম্বর?
এবার দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনুসরণ করা হয়েছে রুব্রিক্স বা পূর্বনির্ধারিত নম্বর বণ্টন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে কোন অংশের জন্য কত নম্বর দেওয়া হবে, তা আগেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ফলে আগের মতো ঢালাওভাবে বা বাড়তি নম্বর দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে এবার উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অর্জনের চিত্র এবার ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে জিপিএ-৫ কমেছে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ একই প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন পদ্ধতি দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে কার্যকর থাকলেও চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফল বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, মাত্র তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়া গ্রহণযোগ্য ফল নয়। কোথাও না কোথাও ঘাটতি রয়েছে। সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর বহু বছর পরও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত দক্ষতা তৈরি না হলে সংকটের জায়গা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে ফলাফল আরও খারাপ হতে পারে।
দীর্ঘ পরীক্ষাসূচি ও দুর্যোগের প্রভাবঃ
এবারের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ২৭ জুলাই নিয়মিত সূচিতে পরীক্ষা শুরু হলেও স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয় ২০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ফলে পরীক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী শাফকাতুন তাবাসসুম তুষি গণমাধ্যম কর্মিদের বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চললে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা হলে প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কিন্তু মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি হলে সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।
এ ছাড়া ২০১৯ সালের পর এবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে, মানবিকে সবচেয়ে পিছিয়ে
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও বড় ব্যবধান দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় মানবিক বিভাগের ফলাফল অনেক পিছিয়ে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকেও মানবিক বিভাগে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। এ বিভাগে ১৬ হাজার ৪০১ জন ছাত্র ও ২৭ হাজার ৯৩৬ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছেন।
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ হাজার ২৬৭ জন ছাত্র ও ১২ হাজার ৬৬২ জন ছাত্রী। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্র ও ১৫ হাজার ৯৭৭ জন ছাত্রী।
সামগ্রিক ফলাফলে ছাত্রীদের অবস্থান তুলনামূলক ভালো। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৩৩ জন ছাত্র।
তদন্ত ও গবেষণার দাবিঃ
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বলেন, ২০২০ সালে নতুন সিলেবাস ঘোষণার পর এবারই শিক্ষার্থীরা প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছে। করোনা মহামারিসহ নানা কারণে পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছিল। সে কারণে এবারের পরীক্ষার্থীদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। জিপিএ-৫ এত কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে গবেষণা করা প্রয়োজন। বোর্ড দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়াও শিক্ষার মানের ওপর প্রভাব ফেলছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকলে শিক্ষকদের পাঠদান থেকে সরাসরি উপকৃত হতে পারে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বোর্ডের এবারের ফলাফল শুধু পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতার চিত্র নয়; বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান, শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন সামনে এনেছে।
বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলার দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে দক্ষতার অভাব এবং গাইডনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ফলাফল প্রকাশ ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধ না থেকে কলেজভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং পাঠদানের মান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ