গোপালগঞ্জে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মোঃ ইয়ামিন ইসলাম, গোপালগঞ্জ
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:০৬ অপরাহ্ণ

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা ওরফে মুহিন হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এই রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক। মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

রায়ের পর নিহত শিশু মুহিনের বাবা ও মামলার বাদী মানজুরুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি বলে মনে করি। আমি চাই, আদালতের দেওয়া রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম জুলকদর রহমান বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। আদালত যে রায় ঘোষণা করেছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও রায়ের বিভিন্ন দিক উচ্চ আদালতে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। আমরা আশা করি, উচ্চ আদালতে মামলাটি পুনর্বিবেচনার পর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং আসামিপক্ষ তাদের আইনি প্রতিকার পাবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম বলেন, আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এ রায় ঘোষণা করেছেন। একটি ১২ বছর বয়সী শিশুকে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আদালতের এ রায় ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক বার্তা দেবে।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন