গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন পোষাক কারখানার
গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর কালিয়াকৈর বিভিন্ন পোষাক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে আবার উৎপাদনে গতি ফিরছে আর শ্রমিকের মুখেও হাসি। গত কয়েক দিন ধরে বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি সচল হওয়ায় কারখানাগুলোতে কাজের চাপও বেড়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর এখন জমে থাকা অর্ডার শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।

01830 393439
তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলেও গত কয়েক মাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরও সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে সহযোগিতা এবং বকেয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান তারা।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় বাণিজ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ইপিজেডসহ গাজীপুর, কোনাবাড়ি মৌচাক ও কালিয়াকৈর এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ১,৮০০ শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানার বেশী ভাগই তৈরি পোশাক খাতের। এখানে কাজ করেন প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক।
গত কয়েক মাসে গ্যাস ও জ্বালানি-সংকট এসব কারখানার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। একটি কারখানায় গড়ে যেখানে ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, সেখানে অনেক সময় মাত্র ১ থেকে দেড় পিএসআই পাওয়া গেছে। এ কারণে বয়লার ও ডাইং ইউনিট চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। উৎপাদন চালু রাখতে জেনারেটর ও ভাড়া গ্যাস ব্যবহার করতে গিয়ে বেড়ে যায় খরচও।

০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯
এ অবস্থার মধ্যে গত দুই দিনে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত ও তিতাস গ্যাসের বিশেষ উদ্যোগে কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ ২.৫০ পিএসআই থেকে বেড়ে ৬.৫৯ পিএসআই পর্যন্ত উঠেছে।
নুর গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, গ্যাসের সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় তাদের কারখানায় উৎপাদন কম ছিল। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। তবে গত দুই দিনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে।
জহিরুল ইসলাম আরও জানান, তাদের কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই। এখন পাওয়া যাচ্ছে ৬.৫৯ পিএসআই। এতে শ্রমিকদের কাজের উৎসাহ বেড়েছে এবং কারখানায়ও আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে।
তিনি বলেন, “জ্বালানি সরবরাহের এই পরিস্থিতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে সহায়তা এবং বকেয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হলে গত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।”
অন্যদিকে নায়াগ্রা টেক্সটাইল এজিএম (অ্যাডমিন) তালুকদার বলেন, “প্রয়োজনের তুলনায় কারখানায় এখনও গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।”
তালুকদার বলেন, “আমাদের প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন, তা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আশা করছি আস্তে আস্তে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯
গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানার বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি এখন আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের অলস সময় কাটানোর পরিস্থিতিও কমেছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কারখানাগুলোতে জমে থাকা বা বকেয়া অর্ডারের কাজ শেষ করতে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহের এই উন্নতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। তবে সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তাও প্রয়োজন।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির গাজীপুর ও তিতাসগ্যাস অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো.সাখাওয়াত বলেন, “সিস্টেমে গ্যাসের চাপ বাড়ায় সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে।”
তার মতে, সব এলাকায় একই সময়ে গ্যাসের চাপ বাড়ে না। অঞ্চলভেদে ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হয়।
মো.সাখাওয়াত বলেন, “আশুলিয়া ও সাভারের শিল্প অঞ্চলে ইতোমধ্যে গ্যাসের চাপ আগের চেয়ে বেশ ভালো। সামনের দিনগুলোতে এই সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।”

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:২৭ অপরাহ্ণ