কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে পোশাক শিল্প কারখানা উৎপাদনে অচল হাজারো শ্রমিক বেকার

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ । ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈর এখন গ্যাস-সংকটে প্রায় অচল। LNG টার্মিনাল দুর্ঘটনার পর প্রায় ১ মাস ধরে তিতাসের গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় উপজেলার নিশ্চিন্তপুর, সফিপুর, মৌচাক ও

কালিয়াকৈর সদরের গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়েছে। জেনারেটর ও ডিজেলের উপর ভর করে কোনোমতে টিকে থাকলেও প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে কোটি টাকা লোকসান। হাজারো শ্রমিকের চাকরি এখন অনিশ্চিত।

 

Waterproof mobile Cover
01830 393439

সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈরের নিশ্চিন্তপুর এলাকার লিবাস টেক্সটাইল ও নরু গ্রুপ সহ বড় বড় কারখানাগুলোতে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশে। গ্যাসের চাপ না থাকায় সুতা, ডাইং ও ফিনিশিং সেকশনের অধিকাংশ মেশিন বন্ধ। কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য নেই।

কারখানার মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মনোবল ধরে রাখতে সম্প্রতি এক কাতারে বসে দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছে। কিন্তু তাতেও শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক কাটছে না।

 

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অপারেটর বলেন,গ্যাস নাই, কাজ নাই। এভাবে চললে মালিক বেতন দিবে কিভাবে? আমাদের পেট চলবে কিভাবে?

কালিয়াকৈরের কারখানাগুলো গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেল জেনারেটরের উপর নির্ভর করছে। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না, বরং খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

কালিয়াকৈরের একটি মাঝারি কারখানার মালিক বলেন, স্বাভাবিক সময়ে মাসে ৩-৪ কোটি টাকার খরচ হতো। এখন শুধু ডিজেল কিনতেই ১০-১২ হাজার লিটার লাগছে প্রতিদিন। গত ৩ মাসে শুধু জ্বালানিতেই ৫ কোটির উপর চলে গেছে। এই লোকসান নিয়ে আর কতদিন কারখানা চালাবো?

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে তৈরি পোশাক খাতে। কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর কাপড় ডাইং করতে ১৫ দিন আগে গ্যাস লাগে। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে ডাইং ইউনিট বন্ধ থাকায় প্রক্রিয়াজাত কয়েক টন ভেজা কাপড় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

কারখানা মালিকরা বলছেন, এভাবে আর কয়েকদিন চললে বিদেশি বায়াররা ক্রয়াদেশ বাতিল করে দিবে। তখন হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। কালিয়াকৈরের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে তিতাসের গাজীপুর শাখার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো.সাখাওয়াত হোসেনবলেন,আমরা যতটুকু গ্যাস পাচ্ছি, তা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। তবে যতটুকু পাচ্ছি, তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত এসপিবলেন,গ্যাস-সংকটের কারণে কালিয়াকৈরের কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক কারখানা বিকল্প উপায় খুঁজছে। তবে কতটি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে ,শিল্পের জন্য আলাদা গ্যাস লাইন দিতে হবে, জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলায় গ্যাস-সংকটে শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধের পথে। নিশ্চিন্তপুর-সফিপুরে উৎপাদন ৩০% এ নেমেছে। ডিজেলের খরচে দিশেহারা মালিকরা। হাজারো শ্রমিকের চাকরি অনিশ্চিত। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি এলাকাবাসীর।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন