কালিয়াকৈরে সিএনজি স্টেশনে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইন তীব্র গ্যাসের সংকটে চালকদের জনজীবন বিপর্যস্ত

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর) ঢাকা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ । ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বিভিন্ন সিএনজি তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। গত ১০দিন ধরে হাজারো বাড়ির চুলা নিভে আছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইন। আর সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা জরুরি সেবায় -গ্যাস না পেয়ে এম্বুলেন্স অচল,রোগীর জীবন নিয়ে টানাটানি।কালিয়াকৈর উপজেলা বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে থেকে শুরু করে সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত এম্বুলেন্সে ও সি এন জির লম্বা সারি।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

গ্যাসের আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস মিলছে না। কালিয়াকৈরে থেকে ঢাকায় রোগী নিয়ে যাওয়ার পথে ৪ ঘন্টা স্টেশনে বসে থাকার পর মাত্র ৩০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন এম্বুলেন্স চালক সেলিম। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,রোগীর অবস্থা খারাপ। অক্সিজেন চলছে। কিন্তু ৩০ টাকার গ্যাস দিয়ে ৫ কিলোও যাওয়া যাবে না। রাস্তায় রোগী মারা গেলে দায় কে নিবে?

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পেরে ইতিমধ্যেই কয়েকজন রোগী রাস্তায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।বুধবার সকাল থেকে কালিয়াকৈর পৌরসভা, সফিপুর, চন্দ্রা, মৌচাক, এলাকায় গ্যাসের চাপ একদম শূন্য।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কালিয়াকৈর বাজারের বাসিন্দা হাসিনা বেগম বলেন,সকাল ৬টা থেকে চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করছি।১০টার দিকে একটু আগুন আসে। এরপর আবার বন্ধ। বাচ্চাদের স্কুলের টিফিন বানাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে ২১০০টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।গ্যাস সংকটের সুযোগে এলপিজি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে ১৬০০ টাকার সিলিন্ডার এখন ২০০০-২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গ্যাসের অভাবে কালিয়াকৈর উপজেলার ২৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৫টিই বন্ধ। খোলা থাকা ৬ টি স্টেশনেও সরবরাহ নেই বললেই চলে।

কালিয়াকৈর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ২টায় সিএনজি চালকরা মাত্র ৩০-৭০ টাকার গ্যাস পাচ্ছেন। যা দিয়ে ৫-৭ কিলোমিটারও যাওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

হাইজ চালক রফিক মিয়া বলেন,সকাল ৮টা থেকে লাইনে। ২টায় ৭০ টাকার গ্যাস পেলাম। এই গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালিয়ে পেটের ভাত জুটবে না। মালিকের জমা দিব কিভাবে? এভাবে চললে না খেয়ে মরতে হবে।

গ্যাস না পেয়ে রাস্তায় গাড়ি কমে যাওয়ায় যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল মিলে গ্যাস চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ৪০% কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে রপ্তানি আদেশ বাতিল ও হাজারো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) কালিয়াকৈর জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক বলেন,জাতীয় গ্রিডে এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় আমরা মাত্র ৪০-৫০% গ্যাস পাচ্ছি। এ কারণে আবাসিক ও যানবাহনে চাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

ক্ষুব্ধ কালিয়াকৈরবাসীর দাবি, একজন সুস্থ মানুষ ইনকাম না করতে পারলেও বেঁচে থাকবে কিভাবে ।কিন্তু গ্যাস না থাকলে সে জীবিত অবস্থায়ই মারা যাবে। দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ লাঘব করুন।
কালিয়াকৈরে এলএনজি সংকটে তীব্র ভোগান্তি। এম্বুলেন্স অচল, রোগীর জীবন সংকট। চুলা নিভেছে, সিএনজি স্টেশনে লম্বা লাইন। ৬ ঘন্টা অপেক্ষায় ৩০ টাকার গ্যাস। এলপিজির দাম দ্বিগুণ।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন