চট্টগ্রামে বন্যায় মৎস্য ও কৃষিখাতে শতকোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ । ৩:৪১ অপরাহ্ণ

১৫৩ ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত, ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পানির নিচে। সবছেয়ে বেশি ক্ষতি বাঁশখালীতে। বৃষ্ঠি ও বন্যা অব্যাহত থাকায় ক্ষয়-ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমান নির্ধারনে অপেক্ষা করতে হবে।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘি ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং চূড়ান্ত হিসাব শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। সাতকানিয়ায় ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, পানি নামার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যাবে। তখন ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বন্যায় ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা আপ্রু মারমা বলেন, কৃষিজমির পাশাপাশি সবজি আবাদেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর এবং বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। পানি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পুনরায় জরিপ করে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের বীজ, সার ও পুনর্বাসন সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের তালিকা প্রণয়ন করে পুনর্বাসন কর্মসূচির জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কৃষক ও মৎস্যচাষিদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন