কালিয়াকৈরে বৃষ্টি হওয়ার ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে ড্রেনের ব্যবস্থা নেই চারদিকে পানির থৈ থৈ|

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধি ঢাকা।
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ । ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

গাজীপুরে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে বৃষ্টি হওয়ার পানিবন্দি হাজারো পরিবার, পানির থৈ থৈ পৌরসভার পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের কোন পদক্ষেপ নেই। বিশুদ্ধ পানি-খাবার সংকট

টানা ৪৮ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনো জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার অর্ধ লাখ মানুষ। অনেক স্থানে ঘড়বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে নির্ঘুম রাত কেটেছে বাসিন্দাদের। ঘড় ছেড়ে অনেকেই আবার আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। এদিকে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের মাঝে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।

যোগাযোগ ০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯
রাস্তার উপর জলাবদ্ধতা

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ২ টায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড, মাটিয়াকলোনি, হাজী বাড়ি, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, পল্লিবিদ্যুৎ, দিঘিরপাড়, ৫নং ওয়ার্ডের ডাইনকিনি, হরতিকতলা, আমতলা,বাদশা হাউজ,মাইওয়ান মোড়, চন্দ্রাসহ আরও কয়েকটি মহল্লায় পানিবন্দি হয়ে আছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও নালাগুলো অকেজো থাকায় এক দিন পেরিয়ে গেলেও পানি নামতে পারেনি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা। ডুবে যাওয়া এলাকাগুলোতে সাবমারসিবল পাম্প, টিউবয়েল পানির নিতে তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। এতে পানিবন্দি মানুষ বোতল, কন্টেইনারে করে বিভিন্নস্থান থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। এছাড়া এসব এলাকায় গ্যাসলাইন বন্ধ রয়েছে। ফলে রান্নাবান্না করে খাওয়ার সুযোগ নেই।

যোগোযোগ: ০১৮৩০৩৯৩৪৩৯

রেদুয়ান হাসান নামে এক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল সকালে ঘড় ডুবেছে, এখনো ঘরে যেতে পারিনি। কোনরকম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্য স্থানে চলে গেছি। ঘর থেকে একটা জিনিস বের করতে পারিনি। এখন কোমর পানি দিয়ে ঘরের সামনে যাই আর ফিরে আসি। কখন পানি কমবে।

ওসমান মিয়া নামে এক মুদি দোকানদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার দোকানের সব মালামাল পানিতে ভাসতাছে। কিছুই বাইর করতে পারিনি। এনজিও থেইকা ঋণ নিয়া দোকানে মালামাল তুলছিলাম, সব শ্যাষ। মনডা চাইতাছে এই পানিতে ডুইবা মইরা যায়।

রোজি আক্তার নামে এক গৃহবধূ বলেন, কতো শখ করে ঘরে কিছু ফার্নিচার করছিলাম। পানিতে সব শেষ করে দিছে। কোনরকম সেগুলো বের করছি। ফ্রিজ, টিভি, সব নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের ভেতর সাপ ব্যাঙ বাসা বেধেছে। নোংরা কালো পানিতে আমাদের খুব খারাপ অবস্থা।

বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন পরিষ্কার কাজ চালাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে অধিক পানি জমে যাওয়ার কারণে ড্রেনগুলো পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা গতকাল সকাল থেকেই প্রধান খালগুলো নিষ্কাশনের কাজ করছি। আমাদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষও কাজ করছে। পানি নেমে গেলে খালগুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে|

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন