বর্ণিল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে চট্টগ্রামে নববর্ষ বরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক , চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:৫০ অপরাহ্ণ

বাঙালির চিরায়ত সংগীত, আবৃত্তি, আলপনার রঙ আর বর্ণিল শোভাযাত্রায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরের বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও লোকজ আয়োজনে ছড়িয়ে পড়ে বৈশাখের আনন্দ।

অর্ডার করতে ০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরের সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি কাজীর দেউড়ি ও লাভ লেন মোড় হয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল গ্রামীণ জীবনের প্রতীকী উপকরণ, মুখোশ ও বর্ণিল প্ল্যাকার্ড। ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা ও লাল-সাদা পোশাকে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিসি হিল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বর্ষবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
অন্যদিকে, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নগরের ঐতিহাসিক সিআরবি শিরীষতলায় নববর্ষ উদ্‌যাপন পরিষদের উদ্যোগে সকালে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়, যার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের উদ্যোগে নন্দনকানন কাটাপাহাড় লেন এলাকায় সকাল থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামে প্রথম নববর্ষ উদ্‌যাপনের সূচনা করে উদীচী।
নববর্ষ উপলক্ষে আবৃত্তি ও সংগীতভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বোধনের আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ‘বোধন বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’ চলছে। একই সঙ্গে কাজীর দেউড়িতে সিজেকেএস মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে নরেন আবৃত্তি একাডেমি।
এদিকে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ চট্টগ্রাম ৩১ চৈত্র রাতে বৌদ্ধমন্দির সড়কে ‘আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন’ এবং পয়লা বৈশাখে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
নববর্ষের সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সিআরবি শিরীষতলা, ডিসি হিল ও শহীদ মিনার এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবার-পরিজন নিয়ে লাল-সাদা পোশাকে অনেকেই শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

যোগাযোগ ০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

এদিকে কাজীর দেউড়ি থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে আঁকা বৈশাখী আলপনা নগরবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। রঙিন এ সজ্জা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সাংস্কৃতিক কর্মী অর্জুন দেবনাথ বলেন, করোনা মহামারি ও রমজানের কারণে কয়েক বছর বৈশাখী আয়োজন সীমিত ছিল। এ বছর তাই মানুষের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ অনেক বেশি।
উৎসবকে ঘিরে নগরজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। নিরাপদ পরিবেশে নগরবাসী যেন উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন