বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভেঙে শারীরিক সম্পর্ক,চট্টগ্রামে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা

চট্টগ্রাম নগরীতে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হয়েছে মামলা,অভিযুক্ত যুবক দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা করছে পরিবার।বিগত ২৬ জানুয়ারি বিকেল থেকে ২৭ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত নগরীর হোটেল লুসাইয়ে ঘটনাটি ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯
ভুক্তভোগী মুনিয়াত ১৯ বছর সে লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বসবাস করেন।অভিযুক্ত শাহরিয়ার মুক্তাদ তুষার ২৩বছর একই উপজেলার দক্ষিণ রতুবুল
৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পূর্বে একই ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া ছিলেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়,প্রায় দুই মাস ধরে মোবাইল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ চলছিল। ২৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে তুষার মুনিয়াতকে ফোন করে চট্টগ্রাম নগরীর ব্যবসায়ী স্থান টেরিবাজারে দেখা করার অনুরোধ করেন এবং শপিং করানোর কথা বলেন। পরে তারা টেরিবাজার এলাকায় সময় কাটান এবং সন্ধ্যার পর সিনেমা প্যালেস মোড় হয়ে হোটেল লুসাইয়ের পঞ্চম তলার ৩৪ নম্বর কক্ষে ওঠেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিট থেকে পরদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।পরবর্তীতে বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে অভিযুক্ত অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মুনিয়াত বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা বিষয়টি যাচাই করে ৬ই ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।মামলাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানায় নথিভুক্ত হয়েছে,মামলা নম্বর ৬/২০২৬।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন বলেন,ঘটনাটি সংবেদনশীল।অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।ডিজিটাল মেসেজ,কল লগ,সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে,তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা রাকিব হাসান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন,আমরা মাঠে কাজ করছি।প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে দ্রুত গ্রেপ্তার সম্ভব হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে তা অস্বীকার করলে বিষয়টি আইনি প্রশ্নের জন্ম দেয়।প্রমাণের ভিত্তিতে এটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশিষ্ট আইনজীবী রেখা চৌধুরী বলেন,প্রতিটি মামলায় সম্মতি,প্রতারণা,প্রলোভন ও পরিস্থিতিগত প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়।প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাজকর্মীরা বলছেন,তরুণদের মধ্যে অনলাইন যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলেও আইনি সচেতনতার অভাব ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।পারিবারিক তদারকি,মানসিক সহায়তা ও সম্পর্ক বিষয়ে বাস্তবধর্মী শিক্ষা জরুরি।একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন,সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতি, আইনি স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে,তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।পরিবার বলছে,তারা ন্যায়বিচার চান। এদিকে অভিযুক্ত দেশ থেকে পালাতে পারে এমন আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক নজরদারি জোরদার করেছে। চট্টগ্রামের এই ঘটনা প্রেম,প্রতিশ্রুতি,সম্মতি ও আইনি বাস্তবতার জটিল প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে এবং তরুণ সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেখ শহীদুল হক বাবলু নিজস্ব প্রতিনিধি চট্টগ্রাম।
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১:৫৪ অপরাহ্ণ