পদযাত্রা স্থগিত,ঘোষণা আমরণ অনশনের

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ । ৪:২৪ অপরাহ্ণ

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়ি ভাড়া তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ করাসহ তিন দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখের পদযাত্রা স্থগিত করেছেন।

গতকাল ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে আমরণ অনশনের পাশাপাশি সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করা হবে।

গত ৫ অক্টোবর শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে গত রোববার থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

তাদের দুটি দাবি হলো– চিকিৎসা-ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার এবং উৎসব-ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা।

গত সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। পরে তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। আর গত বুধবার শাহবাগ মোড় আড়াই ঘণ্টা অবরোধ করেন। সেখান থেকেই যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা ঘোষণা হয়েছিল। তবে গতকাল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের আগে এটি স্থগিত করা হয়।

জোটের সদস্য সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ এসেছে– যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করলে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। সুযোগসন্ধানী ও ষড়যন্ত্রকারীরা আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিতে পারে। কর্মসূচি স্থগিত করলে সরকারকে তারা চাপ দেবে জানানোর পর আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টা লাগাতার অবস্থানের পাশাপাশি শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে আমরা অনশন শুরু করব। সরকারের টনক না নড়লে আমরণ অনশনে যাব। আর আগামী ১৯ অক্টোবর, রোববার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করা হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর সচিবালয়ে দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আলোচনার নামে আইওয়াশ করা হয়েছে। আমরা ছাড় দিলেও সরকার অনড়। উপদেষ্টাকে আমাদের ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করে দিতে বললেও তিনি বক্তব্যে অনড়।

নতুন প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এ বছর ১০ এবং আগামী বাজেটে বাকি ১০ শতাংশ দেওয়ার অনুরোধ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করতে বলেছি। সরকার আমাদের অনুরোধ পুনর্বিবেচনা করেনি। রাষ্ট্র হাজার কোটি টাকার অস্ত্র কিনতে পারে, প্রকল্প ও প্রশিক্ষণের নামে অর্থ তছরুপ করতে পারে; কিন্তু শিক্ষকদের তিন হাজার টাকা দিতে পারে না।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ রাষ্ট্র দেউলিয়া হয়ে যাক, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। প্রয়োজনে না খেয়ে মরে যাব, তবু দাবি থেকে বিচ্যুত হব না। শ্রেণি কক্ষে কার্যক্রমে ফিরব না।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন