আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সামরিক বাহিনীর যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন, তার মধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা সদর।একজন এখনো পলাতক ।
সেনাবাহিনীর দৃষ্টিতে, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ কর্মস্থলে ‘অবৈধভাবে’ অনুপস্থিত।
গুমের মামলায় ট্রাইব্যুনাল থেকে পরোয়ানা জারির পর তা নিয়ে তুমুল আলোচনা এবং সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার না করায় জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের ক্ষোভের মধ্যে আজ শনিবার ১১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের মেস আলফাতে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ তথ্য জানান।
সামরিক বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে মোট ২৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হলেও চাকরিরত ১৫ জনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। লাপাত্তা একজনের বাইরে আটজন সামরিক বাহিনী থেকে এরই মধ্যে অবসর নিয়েছেন। একজন রয়েছেন অবসরের প্রক্রিয়ায়।
আওয়ামী লীগ আমলের গুমের ঘটনায় দুটিসহ মোট তিনটি মামলায় ট্রাইব্যুনাল বুধবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা।
হাকিমুজ্জামান বলেন, তিনটি মামলায় ২৫ জন সেনাসদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআরে একজন আর সেনাবাহিনীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ জন। ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এলপিআর ও সার্ভিসে থাকা ১৬ জনকে সেনা সদরে সংযুক্ত হতে বলা হয়। ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনা সদরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি ১৫ জন এসেছেন। তাঁরা পরিবার থেকেও আলাদা থাকছেন।
কবীর আহাম্মদের বিষয়ে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, তিনি ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হয়েছেন। এর পর থেকে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজিএফআই, এনএসআই ও বিজিবিকে বলা হয়েছে যেন তিনি দেশত্যাগ করতে না পারেন।
মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ সর্বশেষ সিলেটে সেনাবাহিনীর স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসে (এসআইএন্ডটি) কমান্ড্যান্ট পদে ছিলেন। তিনি ডিজিএফআইয়ে সাবেক পরিচালক।
গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলা হচ্ছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায়। অন্যটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায়।
তিন মামলায় মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাঁদের মধ্যে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ পাঁচজন পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে র্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালক (ডিজি) রয়েছেন,এঁদের একজন বেনজীর আহমেদ পুলিশের মহাপরিদর্শকও (আইজি) হয়েছিলেন। পুলিশের বাকি দুজন ছিলেন ওসি।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পাঁচ ডিজি আসামির এই তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা সবাই এখন অবসরে। বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন এমন আরও ছয়জন আছেন তালিকায়। যাঁদের দুজন অবসরে গেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫ । ৯:৫৭ অপরাহ্ণ