ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইডিবির সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) সঙ্গে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি করেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং আইডিবির মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
চুক্তির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে প্রায় ১ দশমিক ০০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে আইডিবি। গত ৭ জুলাই অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নন-কনসেশনাল ঋণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ঋণের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে নতুন করে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। ফলে ইআরএলের মোট পরিশোধন সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। অর্থাৎ বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় তা প্রায় তিনগুণ হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল স্থানীয়ভাবে পরিশোধনের সুযোগ বাড়বে। এতে তৈরি জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজন কমার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকিও কমবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানিতে পরিশোধন ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট সুবিধার কারণে প্রায় ২০ মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। বছরে এ সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ৫ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।
জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে দেশে পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও স্থিতিশীলতা আসতে পারে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল প্রায় দেড় দশক আগে। ২০১০ সালে প্রথম এ উদ্যোগ নেয়া হলেও অর্থায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এ সময় প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েক দফা বেড়েছে।

ধানের শীষ, বিএনপি

সর্বশেষ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করে। তখন প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব মোকাবেলায়ও কিছুটা সক্ষমতা বাড়বে।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন