চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গিরকে ওএসডি, নতুন দায়িত্বে ডা. সাজেদুর

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ । ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমানকে চট্টগ্রামের নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে যুগ্ম সচিব সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এ আদেশ জারির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

Waterproof mobile Cover
01830 393439

প্রজ্ঞাপনে বদলি করা কর্মকর্তাদের আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য করা হবে।
নতুন দায়িত্বে ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হয়। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারীসহ ১৭১টি পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নানা

যোগাযোগ
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার্থীদের সময়মতো এসএমএস না পাওয়া, ওএমআর শিট পূরণ নিয়ে বিভ্রান্তি এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা হয়।
এর আগে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও ওঠে। অভিযোগটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন নিয়েও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে চিকিৎসক মহলে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ব্যক্তিগত সততা, কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশংসা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, ডা. জাহাঙ্গীর আলম একজন সৎ, নীতিবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁকে ওএসডি করার ঘটনাকে কেউ কেউ রাজনৈতিক বিবেচনা ও ‘জামায়াত-ট্যাগ’ দিয়ে দলীয়করণের উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন।
এদিকে, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন