মিথ্যা অপপ্রচার বনাম সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিক: প্রশাসনের উদাসীনতা ও সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের প্রতিবাদ।

শেখ শহীদুল হক বাবলু নিজস্ব প্রতিনিধি চট্টগ্রাম।
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭:২১ অপরাহ্ণ

সাংবাদিকতা হলো সমাজের সত্যের প্রতিফলন, মানুষকে সচেতন করার এক অনন্য মাধ্যম। কিন্তু এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিপদও। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এ সত্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘টুরিস্ট’ পত্রিকার প্রতিনিধি এবং অনলাইন সেবা ‘জাগো বাঁশখালী’ এর পরিচালক সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে সামাজিক ও অনলাইন মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, অপবাদ ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

https://www.facebook.com/share/186cCPpDeg/?mibextid=wwXIfr
উচ্চতা বৃদ্ধির হিল
০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের পেশাগত সুনাম নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে গুরুত্ব বহন করে। চাঁনপুর বাজারে অবস্থানরত সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে আসছেন। তিনি সমাজে অরাজকতা, মানবিক অবক্ষয় ও অনৈতিক কার্যকলাপ রোধে জনগণকে তথ্যভিত্তিক সচেতনতার মাধ্যমে পথ দেখানোর চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে কিছু অসৎ ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাংবাদিকের বক্তব্য অনুযায়ী, তার অফিসের আশেপাশে কিছু অনৈতিক ব্যক্তি ঘোরাফেরা করছে এবং কখনো কখনো আক্রমণের হুমকি প্রকাশ করছে। এ ধরনের হুমকি কেবল তার পেশাগত দায়িত্বকেই নয়, তার পারিবারিক নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচার তার পরিবারের সদস্যদের মানসিক শান্তি নষ্ট করছে।

বিজ্ঞাপন

এটি তার পারিবারিক ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পেশাগত খ্যাতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালন করা, মানসিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। জিডি না নেওয়া ও প্রশাসনের উদাসীনতা মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিক বাঁশখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (G.D.) করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় ওসি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পুলিশ প্রশাসনের এই উদাসীনতা সাংবাদিককে গভীরভাবে ব্যথিত ও আতঙ্কিত করেছে। তিনি বলেন, “আমি শুধু আমার আইনি অধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে আমার জীবন, পেশাগত সম্মান এবং দীর্ঘদিনের সুনাম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

পুলিশি উদাসীনতা শুধু সাংবাদিকের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে না, বরং একটি সম্প্রদায়ের আস্থা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। যদি একজন সাংবাদিক নিজের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহায়তা না পায়, তাহলে সমাজে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করা কতোটা কঠিন হয়ে ওঠে, তা বোঝার জন্য আরেকটি উদাহরণ এ ঘটনা।

বিজ্ঞাপনের জন্য কল করুন

সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের তীব্র প্রতিবাদ সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ (JDC) বাঁশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, বিভাগীয় কমিটি, নগর কমিটি ও প্রতিটি জেলা ও থানা কমিটি একযোগে সাংবাদিক আবু ছিদ্দিকের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানি এবং হুমকির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাঁশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে সামাজিক ও অনলাইন মাধ্যমে চালানো মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানি এবং হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন যদি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা জোরালো কর্মসূচী ঘোষণা করব। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার ও ডিআইজি-কে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।” সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি আরও জানায়, “এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। আমরা প্রশাসনকে সতর্ক করছি, যাতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচীর মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া হবে।
অভিযোগ ও প্রভাব সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিকের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু অসৎ ব্যক্তি সামাজিক ও অনলাইন মাধ্যমে তার নাম ব্যবহার করে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করছে। এতে তার অফিস, প্রতিষ্ঠান ‘জাগো বাঁশখালী’ এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের ওপরও ভিত্তিহীন সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “এই অপপ্রচার কেবল আমার ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সমাজ সচেতনতার দায়িত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে সত্যের পথে কাজ করেছি, কিন্তু সম্প্রতি চালানো এই মিথ্যা অপপ্রচার আমার সুনাম ও পেশাগত পরিচয়কে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
সামাজিক ও সাংবাদিক প্রতিক্রিয়া মানবাধিকার এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংগঠনগুলো সাধারণত এ ধরনের ঘটনা নজরদারি করে থাকে এবং সরকারের কাছে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়। সাংবাদিক আবু ছিদ্দিকের অভিযোগ প্রমাণ করে যে, সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে কিছু অসৎ মহল সবসময় বাধা সৃষ্টি করে। সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জোরালো কর্মসূচী নেওয়া হবে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির সুরক্ষা নয়, বরং সাংবাদিক সমাজের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
সাংবাদিকতা হলো সত্য প্রকাশের হাতিয়ার। একজন সাংবাদিকের স্বাধীনতা সীমাহীনভাবে রক্ষা করা না হলে সমাজে তথ্যের মুক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রশাসনের উদাসীনতা সাংবাদিকতার উপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিকের ঘটনা প্রমাণ করে, সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধির দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে থাকেন। সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং আইনানুগ পদক্ষেপের দাবি এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সত্যের পথে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের পাশে দাড়ানো, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিকের নির্ভীকতার উদাহরণ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যে সাহস ও সততা ছাড়া সমাজ সচেতনতা ও ন্যায়ের পথে লেখা সম্ভব নয়।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন