জমি নিয়ে ঝগড়ার রক্তাক্ত সমাধান, ক্রেতা বিক্রেতা দুজনই লাশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, যশোর
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

যশোরের চৌগাছা উপজেলার সলুয়ায় গতকাল জমির দখল বুঝে দিতে চাপ সৃষ্টি করায় ক্রেতা রফিকুল ইসলামকে (৩৫) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে বিক্রেতা আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫)। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা আব্দুল আলিম পলাশকে ধরে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর জখম রফিকুল ইসলামকে ঢাকায় নিয়ে যাবার সময় পথিমধ্যে তিনিও মারা যান।

বিজ্ঞাপনের জন্য কল করুন

নিহত ক্রেতা রফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল হোসেনের ছেলে এবং বিক্রেতা আব্দুল আলিম পলাশ একই গ্রামের মৃত হযরত আলী মন্ডল ওরফে মালোর ছেলে।

চৌগাছা থানা পুলিশের ওসি রেজাউল করিম জানান, রফিকুল ইসলামের স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, আব্দুল আলিম পলাশের কাছ থেকে ১০/১২ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন রফিকুল ইসলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন পরও তাকে জমির দখল বুঝে দিচ্ছিলেন না আব্দুল আলিম পলাশ। তারপর আবার ওই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেন আব্দুল আলিম পলাশ। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো।

তিনি বলেন, আজ বিকেল ৩টার দিকে রফিকুল ইসলাম চৌগাছার সলুয়া বাজার থেকে সদরের জগহাটি গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে আগে থেকেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওৎ পেতেছিলেন পলাশ। পথে জগহাটির কাছাকাছি সলুয়ার শেষ সীমান্তে পৌঁছালে আব্দুল আলিম পলাশ ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময় রফিকুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। তখন স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে পলাশকে পিটুনি দেন। এতে ঘটনাস্থলেই পলাশের মৃত্যু হয়।

ওসি আরো জানান, গুরুতর জখম রফিকুল ইসলামকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় নিয়ে যাবার সময় নড়াইলে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই সফিয়ার রহমান জানান, ২ বছর আগে ১০/১২ শতক নয় ৮ শতক জমি পলাশের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন রফিকুল। এরই মধ্যে একই গ্রামের মিস্টি ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলামও কিছু জমি ক্রয় করেন পলাশের কাছ থেকে। কিন্তু আসাদুল মাঝে মধ্যে পলাশের কানভারি করতেন।

মঙ্গলবার (২০ই জানুয়ারী) বিকেল ৩টার দিকে রফিকুল সলুয়া বাজারের তার মুদি দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সলুয়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সামনে পৌঁছালে পলাশ চাদরের ভেতর থেকে হাসুয়া বের করে রফিকুলকে কোপ দেন। চোখ বরাবর কোপ মারলে রফিকুল মারাত্মক জখম হন এবং ওই অবস্থায় দৌড়ে সলুয়া বাজারের কামরুল স্টোরের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তার পিছু নিয়ে সেখানে এসে তাকে আরো কয়েকটি কোপ দেন পলাশ। এতে রফিকুল গুরুতর জখম হন। তখন এই দৃশ্য দেখে বাজারের লোকজন এগিয়ে এসে পলাশকে ধরে গণ পিটুনি দেন।

নিহত পলাশের মা পরিছন খাতুন জানান, তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে বাজারের ভেতর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আব্দুল আলিম পলাশের ভগ্নিপতি মোজাম্মেল হোসেন জানান, পলাশ দুপুরে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় রফিকুলসহ বেশ কয়েকজন তাকে ধরে মারধর করে বলে তিনি শুনেছেন। পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এসে জানতে পারেন, পলাশ মারা গেছেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, রফিকুল ইসলামকে গুরুতর জখম অবস্থায় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিলো।

পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসক তাশনিম আলম জানান, বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে রফিকুল ইসলামকে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরের সর্বত্র এমনকী মাথাও কুপিয়ে জখম করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক আরো জানান, বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ আব্দুল আলিম পলাশ নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তিনি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন