মহাকালের সমাপ্তি!সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নাই

ইউনুস,নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ

দেশনেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক ৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার ভোর সময় ৫.৫০ এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন “ এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম নারী এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।যার জন্ম ১৯৪৫ মৃত্যু ২০২৫!

এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। আজ সকাল ৬ টায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

রাতে হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পরিবারের সদস্যারা হাসপাতালে যান। রাত ২টার পর এজেডএম জাহিদ হোসেন হাসপাতালের সামনে এসে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া ‘অত্যন্ত সঙ্কটময়’ সময় অতিক্রম করছেন। উনার পরিবারের পক্ষ থেকে উনার সুস্থতার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি। এর কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান, জাফিয়া রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, প্রয়াত সাইদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার, খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক জানিয়েছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। তিনি অনেকটা লাইফ সাপোর্টে আছেন।

শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ২৩ নভেম্বর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। এর আগে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দিয়ে গাড়িতে ওঠেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি। বহু বছর ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনও শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাঁকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের জুনে তাঁর হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনও তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিল।

এর আগে থেকেই তাঁর হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত, তারপর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

গৃহ বধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং আওয়ামীলীগের রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন তার জনপ্রিয়তা দেখে আওয়ামীলীগ ভয় পেত, কথিত আছে চিকিৎসার নামে স্লো পয়জনিংয়ের কোনও ওষুধ তাঁকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরেকটি মামলাতেও তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন।

২০২৪ সালে আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাঁকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়। পরে তিনি ভি ভি এই পি  (রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক) হিসাবে মর্যাদা পান ইউনুস সরকারের আমলে।

তিনি এ কালের মহা বীর তারমত ক্ষণ জন্মা নারী নেতৃত্ব বাংলার মাটিতে আর তৈরি হবে বলে মনে হয়না, তিনি অল্প বয়সে স্বামী হারা হন ,পরে আওয়ামীলীগের রোষা নলে পড়ে বিভিন্ন সাজানো মামলার আসামী হন, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো হারানোর পর এবং বড় ছেলে তারেক রহমানকে কাছে না পেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। তারপরও কাউকে কিছুই বুজতে দিতেন না এই আপোষহীন নেত্রী, অনেক কষ্ট বুকে চেপে রেখে চলে গেলেন এই বাংলার বীর , ভালো থাকবেন ওপারে নেত্রী।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন।তিনি

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন