জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তোমিইচি মুরাইয়ামা মারা গেছেন। ১০১ বছর বয়সে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের একটি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন জাপানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী। স্বল্পকালীন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও তিনি কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
মুরাইয়ামার জন্ম কিউশু দ্বীপের ওইতা জেলায়, ১৯২৪ সালে। টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তিনি বামপন্থী রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন এবং সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে কয়েক মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো নিম্নকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে সেই আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন তিনি। মুরাইয়ামা ১৯৯৩ সালে জাপানের সমাজতন্ত্রী দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অনেকটা কাকতালীয়ভাবে তোমিইচি মুরাইয়ামা প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে ১৯৫৫ সাল থেকে দেশের সরকার পরিচালনার আসনে বসে থাকা উদার গণতন্ত্রী দল এলডিপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। সেই সুযোগ গ্রহণ করে আটটি বিরোধী দল মিলিত হয়ে সরকার গঠন করে। সেই সরকারের শুরুটা করেছিলেন ছোট একটি দলের প্রধান মোরিহিরো হোসোকাওয়া। আট–দলীয় জোটে সবচেয়ে বেশি আসন ছিল সমাজতন্ত্রী দলের, এরপরই ছিল কোমেই পার্টির অবস্থান।
এভাবেই জাপানের প্রথম ও শেষ সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসেন। তিনি ছিলেন জাপানের ৮১তম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব ছাড়ার আগে তাঁর মন্ত্রিসভা বিশেষ কোনো বড় সাফল্য দেখাতে না পারলেও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আজও দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয়। সেটি হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে চীন ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে আগ্রাসনের জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া ও গভীর শোক প্রকাশ।

জেমস, টোকিও।
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ । ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ