বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘ক্ষমতায় থাকার জন্য ড. ইউনূস মৌলবাদী গোষ্ঠীকে এক করে ফেলেছেন। জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে অন্যদের বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। আমরা যদি বলি যে আগামীকাল রাস্তায় নামবো, তাহলে মনে হয় তিনি ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না। কিন্তু আমরা চাই ড. ইউনূস সফল হোন। তার সাফল্য মানেই হলো, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সফলতা। আজ যারা জুলাই আন্দোলনের মুকুট চায়, তাদের তো মুকুট অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। আমরাও দিয়েছি।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও’ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা চলে যাওয়ার কথা বলেছেন- এটা কেউই বিশ্বাস করছে না। মানুষ বলাবলি করছে যে, ড. ইউনূসের যত সুবিধা নেওয়া দরকার তাই তিনি নিয়েছেন। এখন অন্যদের যা কিছু দেওয়ার কথা বলেছেন, সেটা না দিয়ে তিনি দেহত্যাগ করলেও পদত্যাগ করবেন না।’
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই তার পদত্যাগের নাটক সাজানো হয় বলে মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘নাহিদকে ডেকে প্রধান উপদেষ্টা বকাবকি করলেন, ‘তোমরা যা শুরু করেছো, সেটা বন্ধ না করলে আমি থাকবো না।’ নাহিদ বাইরে এসেই তার (প্রধান উপদেষ্টার) পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানালেন। যদি তিনি পদত্যাগের কথা বলেই থাকেন, তাহলে পরদিনই একজন উপদেষ্টা কীভাবে সেটা অস্বীকার করেন।’
এনসিপিসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর ৯০ ভাগ ছাত্র পড়ার টেবিলে ফিরে গেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত সচিবালয়ে যাইনি। কিন্তু তারা (বৈষম্যবিরোধী নেতারা) এত ঘন ঘন সচিবালয়ে যায় কেন, ডিসি অফিসে যায় কেন? ওসির টেবিলের সামনে বসে থাকে কেন? তারা বিভিন্ন দপ্তরে যাচ্ছে, ডিসি-এসপিদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আজ যে জাতি তাদের মাথায় তুলেছে, সেই মাথা থেকে যদি পায়ের তলায় পড়ে যায় সেটার জন্য কি জাতি দায়ী?’

শেখ বাবলু
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫ । ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ