পাটকেলঘাটার নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ । ৬:১৮ অপরাহ্ণ

পাটকেলঘাটার ভূমি অফিসের নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে স্থানীয় সেবা প্রার্থীদের ইচ্ছাকৃত ভাবে হয়রানি ও মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নামপত্তন (মিউটেশন) খাজনা, দাখিলা, কাটার অভিযোগ করেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গত (০৮/০৬/২৬ সোমবার) সরেজমিনে দেখা যায় যে, তরুণ কুমার সাধু পিতা পরিমল সাধু সাং জগনন্দকাটি তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার স্ত্রী পূর্ণিমার সাধু এবং আমার নামীয় বিগত ইংরেজি ৩০/০১/ ২০২৫ তাং এর ৩২৩ নং এবং ১৪-১১-২৪ তাং ৪০৭৬ নং দুটি কবলা দলিল নাম পত্তন (মিউটেশন) করতে নায়েব অফিসে গেলে, নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল আমার উক্ত জমি জমা খাস বলিয়া আমাকে জানান।

যোগাযোগ ০১৮৩০ ৩৯৩৪৩৯

তখন খাষ হিসাবে আমার ভোগ দখলীয় সম্পত্তি আমার নামে বন্দোবস্ত চাহিলে নায়েব বন্দোবস্ত দিতে অস্বীকার করিয়া আমার ০.৯০০ একর জমিতে অনেক টাকা চেয়ে চাপ প্রয়োগ করেন,
সর্বশেষ আমার কাছে ১০,০০০ হাজার টাকা দাবি করেন।
উক্ত ১০ হাজার টাকা আমি দিতে রাজি না হওয়ায় আমার কেসটি খারিজ করার আদেশ দেন তিনি জানান আমার পূর্বাধিকারী দ্বয়দের জমি জমা আদালত কর্তৃক ভিন্ন নামে ভুলবশত রেকর্ড হয়েছে , যাহার সকল প্রমাণ আমার কাছে রহিয়াছে।

যোগোযোগ: ০১৮৩০৩৯৩৪৩৯

কুমিরা ইউনিয়নের রাড়ী পাড়া গ্রামের একরামুল সরদার জানান ৯/৬/২৬ মঙ্গলবার আমি ভূমি অফিসের নায়েবের কাছে আমার ৪ শতক জমির খাজনা দাখিলা কাটতে গেলে আমার কাছে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা চাওয়া হয়, আমি এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে একপর্যায়ে আমাকে নায়েব বলেন যে, আমাকে ২০০০ টাকা দিলে আমি খাজনা দিতে পারব তা নাহলে আমার দ্বারা সম্ভব নয়।
তখন বাধ্য হয়ে আমি ১৫০০ টাকা দিতে চাইলে আমার দাখিলাটি তিনি কেটে দেন এবং দাখিলায় লেখা ছিল ৭৭০০ শত টাকা।

তাৎক্ষণিক অন্য একজন মুকুল হোসেন নামে ভুক্তভোগী এই প্রতিবেদককে জানান যে, আমি নায়েব অফিসে খাজনা দাখিলা কাটতে গেলে নায়েব তারক আমাকে হিসাব দেন ১৩ হাজার টাকা খরচের, কিন্তু আমি অনেক অনুরোধ করলেও আমার সঙ্গে গালি দিয়ে অসৎ আচরণ করেন।
অতঃপর আমি অপমানিত হয়ে বের হয়ে এসে উক্ত অফিসের ছোট নায়েবের কাছে গেলে তিনি আমাকে ৩১০৪ টাকা খরচের হিসাব প্রদান করেন তিনি ৩১০৪ টাকায় আমার উক্ত জমির খাজনা দাখিলার ব্যবস্থা করে দেন।

এছাড়াও নাম না জানানোর শর্তে অনেকেই অভিযোগ করেন যে, নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল প্রতি নিউট্রিশন বাবদ সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবং সামান্য ভুল ত্রুটি থাকলে তখন লক্ষ টাকার ডিল ছাড়া ফাইল গ্রহণ করেন না।

মিলন ঘোষ অভিযোগ করে বলেন যে, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা কিন্তু অফিসের ভিতরে সার্বক্ষণিক চেয়ারে বসেই নায়েব দামী দামী সিগারেট খেয়ে অফিসের পরিবেশ টাও নষ্ট করেন, কথায় কথায় বাজে বাক্য ব্যবহার করে যার ফলে তার সামনে বসে এক মিনিটও কথা বলার পরিবেশ থাকেনা।

বিজ্ঞাপন

উক্ত বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, উপর থেকে আমাদের অফিস অডিট করতে আসলে উপরের স্যারদের ম্যানেজ করার জন্য আমরা খাজনা, দাখিলা কাটতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু টাকা চেয়ে নিয়ে থাকি।

এ বিষয়ে তালা-পাটকেলঘাটার এসিল্যান্ড (ভূমি) রাহাত খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, এমন অভিযোগ আমি আগেও একবার শুনেছি, তবে কোন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ আমাকে অবহিত করলে অথবা লিখিত অভিযোগ করলে আমি সঙ্গে সঙ্গে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

সম্পাদক: মনজুর আলম, প্রকাশক: আমিন উদ্দীন ।  কপিরাইট © প্রথম সকাল কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন